বগুড়া সদর উপজেলার পীরগাছায় ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে শেয়ার মালিক সেলিম হোসেনকে (২৭) হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর দুই মাস আগে নিহত সেলিমের ছোট ভাই শাহীন মারা গিয়েছিলেন ইনজেকশন পুশ করার পরপরই। 

বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জেলার গাবতলী উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে সেলিম হোসেনের হাতের ক্যানুলা দিয়ে ওই ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হয়। বগুড়া সদর থানা পুলিশ এ ঘটনায় ইনজকেশন পুশকারী ক্লিনিকের সেবক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর সাদ্দাম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করেছে।

গতকাল বিকালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড় ভাই আবদুস সামাদ। তিনি জানান, সাতজনের অংশীদারিত্বে বগুড়া সদর উপজেলার পীরগাছা বাজারে নয় মাস আগে সালমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়। সাতজনের মধ্যে তাদের পরিবারের চারজনের অর্ধেক এবং গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের জিন্নাহ মিয়ার ছেলে সাদ্দামের একাই অর্ধেক শেয়ার ছিল। সাদ্দাম নিজেই ক্লিনিকে সেবক (নার্স) দায়িত্বে এবং সেলিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার সময় সেলিম ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় অসুস্থ বোধ করলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ সেলিমকে স্যালাইন দিয়ে বেডে শুয়ে রাখা হয়। ভর্তির কিছু পর সেখানে সেবক সাদ্দাম হোসেন গিয়ে সুযোগ বুঝে ইনজেকশন বের করে সেলিমের হাতে লাগানো ক্যানুলা দিয়ে পুশ করে দেয়। এ সময় তিনি জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, গ্যাসের ইনজেকশন পুশ করেছেন। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে সেলিম হোসেন মারা যান।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেলিমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সাদ্দাম।