রাজশাহীকে কর্মবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। রাজশাহী সার্কিট হাউজে গতকাল অনুষ্ঠিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে রাজশাহী জেলার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা এবং অংশীজনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সিল্ক সিটি হিসেবে সারা পৃথিবীতে রাজশাহীর সুনাম আছে। আর আমাদের কাছে রাজশাহী শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত। এখন এ শহরকে গড়ে তুলবে হবে কর্মবান্ধব শহর হিসেবে। একে কর্মসংস্থানের শহরে রূপান্তর করতে হবে। এখানে অনেক সম্ভাবনা আছে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাজশাহীর প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, আমি আশাবাদী এ শহর অনেক সুন্দর হয়েছে। এটা মানুষকে আকর্ষণ করবে, এরই মধ্যে পর্যটনের দ্বার খুলে দিয়েছে। এর সঙ্গে রেস্টুরেন্ট, ফ্যাশন হাউজ, পার্লারসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবসা চলবে। এখন পর্যটনকেন্দ্রের যে সুবিধাগুলো আছে সীমিতভাবে হলেও সেগুলো এখানে আনতে হবে। এখন আমরা আর গরিব দেশ নই, আমাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে—তাই এখানে এগুলো করা হলে ভালো চলবে।

রাজশাহী অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে নূরুল মজিদ বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের আম আছে, টমেটো আছে। রাজশাহীর আমের সুনাম বিশ্বব্যাপী। এ ফল থেকে অনেক প্রডাক্ট হয়। টমেটো থেকেও অনেক কিছু হয়, এটা প্রক্রিয়া করতে পারলে সারা বিশ্বেই এর বাজার আছে। এগুলো যদি ক্যানিংজাত করা যায়, তবে প্রচুর আয় করা যাবে। ক্ষুদ্র উদ্যোগেই এগুলো করা সম্ভব।

রাজশাহীতে চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এখানে চামড়া শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেলপুকুরে চামড়া শিল্প গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটা সারা বিশ্বে বড় প্রভাব বিস্তার করবে। শিল্পমন্ত্রী এ সময় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হয়রানি ছাড়া ক্ষুদ্রঋণের সুবিধা দিতে আরো কাজ করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, যারা ক্ষুদ্রঋণ যেমন ১০ লাখ বা ১৫ লাখ টাকা নিয়ে কাজ শুরু করছে, তারা তো আর সঙ্গে সঙ্গে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, তাদের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অব্যাহতি দরকার আছে। বিশেষ করে যারা নারী উদ্যোক্তা তাদের জন্য আরো বেশি দরকার।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক, বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেনী প্রমুখ।