ঈদুল আজহাকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীর বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। কেউ আসছেন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখতে আবার কেউ আসছেন ভারতে থাকা স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। সীমান্তের দুই পারের মানুষ কাছাকাছি যেতে না পারলেও দূর থেকে দেখেই দীর্ঘদিনের না দেখার স্বাদ মেটাতে পেরেই খুশি।
প্রতি বছরই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে হিলি সীমান্ত এলাকায় দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। তবে এবারে ঈদের দিন সারাদিনই থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে সীমান্ত এলাকায় দর্শনার্থীর খুব একটা দেখা যায়নি। তবে ঈদের পরদিন থেকে সীমান্তে দর্শনার্থীর বেশ ভিড় দেখা যায়। শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে সীমান্ত দেখছেন আবার কেউবা সীমান্তের কাছাকাছি রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। আবার কেউ দূর থেকেই সীমান্তের ওপারে থাকা স্বজনের সঙ্গে হাত নেড়ে মনের ভাব প্রকাশ করছেন। এমন অবস্থা আরো দু-তিন দিন থাকতে পারে।
নবাবগঞ্জ থেকে আসা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমার বোন ভগ্নিপতি সবাই থাকে ভারতে। তাই ঈদের ছুটিতে তাদের সঙ্গে দেখা করতেই পরিবার নিয়ে হিলি সীমান্তে এসেছি। ঈদের সময়ে দেখা করার সুযোগ দিই সে কারনেই এসেছিলাম। তারা দীর্ঘদিন এদেশে আসতে পারেনি আমরাও যেতে না পারায় দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। মনে করেছিলাম ঈদের সময় হয়তো কাছ থেকে দেখতে পারব, কথা বলতে পারব। কিন্তু বিজিবি সীমান্তের শূন্যরেখায় যাওয়ার অনুমতি না দেয়ায় তারা ওপারের সীমান্তে অপেক্ষা করেন আর আমরা এপারের সীমান্তে দাঁড়িয়ে তাদের দেখেছি। এপার থেকেই হাত নেড়ে মনের ভাব আদান প্রদান করেছি।’
ঘোড়াঘাট থেকে আসা পুষ্পা রানী বলেন, ‘আমার বাবার বাড়ি ভারতে আর আমার বিয়ে হয়েছে ঘোড়াঘাটে। কিন্তু পাসপোর্ট ভিসাসহ নানা জটিলতায় সবসময় আমরাও যেমন যেতে পারি না তারাও আমাদের দেখতে আসতে পারে না। তো ঈদের সময়ে নাকি সীমান্তে দেখা করতে দেয় সে কারণেই আমি আমার স্বামী এসেছিলাম হিলি সীমান্তে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। আমাদের মতো আমার বাবা মাও এসেছিলেন দেখা করতে কিন্তু অনুমতি না মেলায় সীমান্তের দুই পারে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে আমরা তাদের দেখেছি, তেমনি তারাও আমাদের দেখেছেন।’
বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ইয়াসিন আলী বলেন, ‘প্রতি বছরই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে সীমান্ত এলাকা দেখতে দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে এবার ঈদের দিন বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে গতকাল তেমন একটা দর্শনার্থী ছিল না। কিন্তু গত দুদিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীর বেশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা সীমান্তের পাশে রেললাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সীমান্ত এলাকা দেখছেন কেউবা ছবি তুলছেন। তবে অনুমতি না থাকায় সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।









