দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উন্মুক্ত করে দেয়ায় চট্টগ্রামের আসনগুলোর ভোটের রাজনীতিতে বিভাজন দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। স্বতন্ত্র¿ প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের হওয়ায় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তৃণমূলের রাজনীতিতে সমর্থকদের দ্বন্দ্ব। স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে অন্তত ১১টি আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। 

 তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪, ৬, ৭, ৯ ও ১৩—এ পাঁচ আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী দুর্বল থাকায় সেখানে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়লাভে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব আসনে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন—চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মোহাম্মদ আবদুস সালাম, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

এদিকে শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বাকি ১১টি আসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়র মোশারফ হোসেনের ছেলে মাহবুব উর রহমান। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে গতবার আওয়ামী লীগের জোটের দল তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে আসনটি ছেড়ে দেয়। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার। 

এদিকে এখন পর্যন্ত জোটের সমর্থন না পেয়ে এ আসনে তরীকতের ব্যানারে প্রার্থী হয়েছেন নজিবুল। এ আসনে মাইজভাণ্ডারী পরিবারের আরেক সদস্য বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ভোটের হিসাবনিকাশ পাল্টে গেছে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও বিএমএর সদস্য ডা. মোহম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চাঁদগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নোমান আল মাহমুদের সঙ্গে লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ সালাম। 

চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী চসিকের সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মনজুর আলম ও মহানগর যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা আসনে) বর্তমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক চেম্বার সভাপতি এম আব্দুল লতিফের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র¿ প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহের হোসেন চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বনফুল গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতলেব এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান নির্বাচন করছেন।