রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। আজ বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

বিকেএমইএ'র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে সৌজন্য সাক্ষাতে নির্বাহী সভাপতি ফাজলে শামীম এহসান, সহ-সভাপতি মো. শামসুজ্জামান, মো. মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, আশিকুর রহমান ও ফকির কামরুজ্জামান নাহিদসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে সাম্প্রতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রফতানি সক্ষমতার ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা রাষ্ট্রপতির নিকট গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তাদের আশ্বস্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে শিল্প মালিকদের সোলারসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন এবং সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় বিকেএমইএ সভাপতি রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) উপস্থাপিত পত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, তার দপ্তর থেকে পাঠানো পত্রটি শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি বিকেএমইএ-কেও এ বিষয়ে একটি পত্র পাঠানোর পরামর্শ দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, যাতে সব পক্ষ সমান সুবিধা পায়। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে মজবুত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে অর্থ, শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। এসময় তিনি দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের অবদান রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান।