বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলার ঘটনায় সংঘর্ষ, সিটি করপোরেশন মেয়রসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকেই নগরীর বর্জ্য অপসারণ বন্ধ রয়েছে।
বুধবার রাতের পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বর্জ্য অপসারণ করছেন না।
ফলে বিষিয়ে উঠছে নগরীর পরিবেশ।
সারা দিনের জমানো বর্জ্য যেখানে রাতের বেলায় অপসারণ করা হয়, সেখানে তিনদিন ধরে বরিশালের সড়কে সড়কে বর্জ্য পড়ে রয়েছে।
গতকাল বরিশাল নগরীর সদর রোড, বটতলা, বিএম কলেজ, সিঅ্যান্ডবি রোড, নথুল্লাবাদ, বাংলাবাজার, হাসপাতাল রোড, ভাটিখানা, আমানতগঞ্জ, কাশিপুর, সাগরদী, রুপাতলী বাস টার্মিনাল, কাঠপট্টি রোড, লঞ্চঘাট, চাঁদমারি, মেডিকেল কলেজ এলাকা ঘুরে সড়কে দেখা গেছে বর্জ্যের স্তূপ।
এতে এসব এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
নগরীর সিঅ্যান্ডবি সড়কটি ঢাকা-কুয়াকাটা-পটুয়াখালী-বরগুনা ও পিরোজপুর-ঝালকাঠি মহাসড়কের অংশ।
এ সড়কে আবর্জনার স্তূপ থাকায় দক্ষিণের সবক’টি রুটে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
এ বিষয়ে বিসিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
নগরবাসীর অভিযোগ, সদর উপজেলা ইউএনওর বাসভবনের সামনে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর বুধবার রাত থেকেই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সড়ক ও বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণের কাজে আসছেন না।
ফলে সড়কে বর্জ্যের স্তূপ থেকে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথু্ল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফজলে স্বপন বলেন, তিনদিন ধরেই রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে।
আগে তো রাতের মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যেত।
ইউএনওর সঙ্গে ঝামেলার পর বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কোনো আবর্জনা নিচ্ছেন না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রুবেল বলেন, কাশিপুর থেকে আমতলার মোড় পর্যন্ত যেতে মহাসড়কের নথুল্লাবাদে সড়কের মাঝখানে ও ইউএনও অফিসের সামনে ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে।
এতে আমাদের গাড়ি চালাতেও সমস্যা হচ্ছে।
বিএম কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ বলেন, কলেজের সামনে প্রফেসর গলির মুখে দুদিন ধরে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে।
দুর্গন্ধে টেকা কষ্ট।
এত ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে হেঁটে চলাও কষ্টকর।
এদিকে বিসিসি এলাকায় ২৪টি টিকা কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার সকালে সরিয়ে নেয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের।
ফলে বন্ধ রয়েছে টিকাদান কার্যক্রম।
এতে টিকাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বর্জ্য অপসারণ প্রসঙ্গে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন ও প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বিসিসির প্যানেল মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে করপোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।










