দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও মানবিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সর্বাত্মক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দৈনিক প্রথম আলোর আয়োজনে ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গণমুখী করা বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে বাজেটের বাইরে থাকা কামার, কুমার, তাঁতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি থিয়েটার, সংস্কৃতি, সংগীত, চিত্রকলা ও কৃত্রিম গয়নার মতো সৃজনশীল খাতের উন্নয়নে আগামী বাজেটে বিশেষ প্রকল্প ও তহবিল রাখা হবে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে থিয়েটার জেলা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সংগীতকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক শক্তি আরো বাড়ানো হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অতিরিক্ত খরচ, বন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক হয়রানি কমাতে সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যবসায় অনুমোদনের সংখ্যা কমিয়ে ১৩টিতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিক সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ চলছে।

তিনি আরো বলেন, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজার ও বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশ বন্ড চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে।

কর ফাঁকি রোধে বহুজাতিক ও বড় তামাক কোম্পানিগুলোর প্রকৃত বাজার হিস্যা যাচাই করে কর আদায় করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছোট ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য সহজ বার্ষিক নির্ধারিত কর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে হয়রানি কমে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছে দেয়া। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ শিথিলের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিআইজিডির ফেলো সেলিম জাহান, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সিমিন রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উর রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা এবং বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।