সাভারের আশুলিয়ায় বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ২ নভেম্বর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে গতকাল ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হাবিব কাজল জানান, ৬-১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা করেছে কিনা জানতে চাইলে হাবিব কাজল জানান, এখনো মামলা করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম অন্তরকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ২ নভেম্বর থেকে উত্তপ্ত সাভারের খাগান এলাকা। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার রাতেও মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় চাঁদগাঁও এলাকাবাসী। শিক্ষার্থীরাও এলাকায় ঢুকে প্রায় ২০০ দোকান ভাংচুর করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সিইসি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর তাহমিদ বলেন, ‘রোববার রাতে এলাকাবাসী আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। আবাসিক হলে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। যার কারণে আমাদের নিরাপত্তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটা চিন্তা করেই কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেছে। আজ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অনেকে ভোরেই হল ছেড়ে গেছে।’ 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৭ অক্টোবর শিক্ষার্থী অন্তরকে খাগান এলাকায় মারধর করে গুরুতর আহত করে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ নভেম্বর তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যায় এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে। তখনই বহিরাগতরা ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল ছুড়ে একটি ভবনের গ্লাস ভাংচুর করে। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছন গেট এলাকায় বেশকিছু দোকান ভাংচুর করেন।

চাঁদগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি সাহরিয়ার সুমন জানান, শিক্ষার্থীরা শতাধিক দোকান ভাংচুর ও চারটিতে আগুন দিয়েছেন। এছাড়া লুটপাটও চালিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান জানান, গ্রামবাসীর সঙ্গে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা দোকানে ভাংচুর চালিয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।