মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে ডহরী খালে বালিবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৪৬ যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ওই যাত্রীরা ট্রলারে করে পদ্মা নদীতে পিকনিকে গিয়েছিল। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রসকাঠি গ্রামসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর এক নারী, চারটি শিশু ও তিন যুবকসহ আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। লৌহজং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, তারা সিরাজদিখানের লতব্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে ৪৬ জন পদ্মা নদীতে ঘুরতে আসে। ঘোরা শেষে বালিগাঁওয়ের ডহরী খাল দিয়ে রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরছিল। হঠাৎ বালিবাহী একটি বাল্কহেড এসে ট্রলারে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি ডুবে যায়। কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার কয়েস আহমেদ জানান, ট্রলারটি উদ্ধার তারা এখনো উদ্ধার করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রলারের ভেতরে নিখোঁজ কাউকে পাওয়া যাবে। খালটিতে স্রোতের তীব্রতা ও অন্ধকার থাকায় ডুবুরিদের উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন ঘটছে।
মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু জাফর রিপন জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক স্নেহাশীষ দাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, নদীতে রাতের আঁধারে বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার পরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাল্কহেড চলাচলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।










