ভারতের বাজারে অনলাইন কেনাকাটায় অ্যামাজনকে ছাড়িয়ে গেছে ওয়ালমার্ট। এর প্রধান কারণ হিসেবে ২০১৮ সালের আলোচিত চুক্তির বিষয়টি উঠে এসেছে। তখন ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে ওয়ালমার্ট কিনে নেয় ফ্লিপকার্টের ৭৭ শতাংশ শেয়ার। যদিও চুক্তিটিকে ফ্লিপকার্ট ও ভারতীয় প্রচলিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে দাবি করা হয়েছিল। খবর নিক্কেই।
ট্র্যাক্সনের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক গয়াল মনে করেন, যদিও ওয়ালমার্ট অনেক খরচ করেছে ফ্লিপকার্ট কিনে নিতে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে পয়সা উঠিয়ে নেয়া কঠিন হবে না। তার ভাষায়, ‘আপনি যদি বৈশ্বিক বাজারের দিকে তাকান, তাহলে কোনো ই-কমার্স কোম্পানিই ওয়ালমার্টকে এতটা শক্তিশালী করতে পারত না। কেবল ফ্লিপকার্ট কিনে নেয়ার মাধ্যমেই বাজারে অ্যামাজনকে প্রতিযোগিতায় হারিয়েছে ওয়ালমার্ট।’
২০২১ সালে ফ্লিপকার্টের মূল্য ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। সেখানে ওয়ালমার্ট ছাড়াও জাপানের সফট ব্যাংক ও সিঙ্গাপুরের জিআইসির বিনিয়োগ ছিল। ভারতের বাজারে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রবল প্রতিযোগিতা হচ্ছে ওয়ালমার্ট ও অ্যামাজনের মধ্যে। কাছাকাছি গল্প রয়েছে এশিয়ার অন্য বাজারেও। সিঙ্গাপুরের শপি ও লাজাদা ও ইন্দোনেশিয়ার টোকোপেডিয়া, ব্লিবলি ও বুকালাপাক প্রতিযোগিতায় যথেষ্ট এগিয়ে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের ই-কমার্স ব্যবসা তিন গুণ বেড়ে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে বার্নস্টেইন গবেষণা। একই চিত্র দেখা যাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারগুলোতে। ফ্লিপকার্টের চুক্তির কারণে ওয়ালমার্ট ভারতের বাজারে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। যদিও উভয় প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় কনগ্লোমারেটদের হাতে কিছু শেয়ার হারিয়েছে। ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপ ও টাটা গ্রুপ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। ওয়ালমার্ট ও অ্যামাজন উভয়েই ভারতীয় বাজার দখলে তৎপর। ২০১৪ সালে ফ্লিপকার্ট ১০০ কোটি ডলারের তহবিল ঘোষণার পরপরই অ্যামাজন ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে। বিক্রয় কমে যাওয়ায় অ্যামাজন বৈশ্বিকভাবে ২৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ভারতের বাজারে বন্ধ করে দিয়েছে খাবার সরবরাহ, অনলাইন শিক্ষা, পাইকারি বিতরণ ও বই প্রকাশনা। অ্যামাজন মূলত প্রাইম পরিষেবা নিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে শহুরে অভিজাত মানুষের কাছে। প্রাইম সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে কোনো গ্রাহক দ্রুত সরবরাহ, বিশেষ ছাড় ও ভিডিও স্ট্রিমিং সুবিধা পায়। একই সঙ্গে ফ্লিপকার্টের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে মোবাইল ফোন, ফ্যাশন, ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়ে। গত বছরে ফ্লিপকার্টের বাজার ছিল ৪৮ শতাংশ, অন্যদিকে অ্যামাজনের বাজার ছিল ২৬ শতাংশ। ২০২১ সালে ফ্লিপকার্ট ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিক্রি করে রেকর্ড সৃষ্টি করে।










