সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তার বোন অধ্যাপক রুবিনা হামিদ তাদের কাছে থাকা সব শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে এ শেয়ার বিক্রি করবেন। গতকাল ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঘোষণা অনুসারে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৮ লাখ ১৬ হাজার ও রুবিনা হামিদ ৫ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার বিক্রি করবেন। সম্প্রতি কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক ফৌজিয়া মালেকের (মৃত) ১২ লাখ ২৪ হাজার শেয়ার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালকেরা তাদের কাছে থাকা কোম্পানিটির সব শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ শেয়ার বিক্রির জন্য গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
এর আগে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক অ্যাডভোকেট শায়লা ফেরদৌস ৭ লাখ ১৭ হাজার ৪২৯, উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান খান ২ লাখ ৫০ হাজার ২৯, পরিচালক রাহাত মালেক ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০, রুবিনা হামিদ ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬০, উদ্যোক্তা পরিচালক ড. কাজী আখতার হামিদ ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩৭৮, উদ্যোক্তা শাবানা মালেক ৭ লাখ ১৫ হাজার ২১৩, উদ্যোক্তা মোস্তাক আহমেদ ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭২ ও জাহিদ মালেক ২৯ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার বিক্রি করেছেন।
রুবিনা হামিদের স্বামী ড. কাজী আখতার হামিদ। শাবানা মালেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ও রাহাত মালেক তাদের সন্তান।
এর আগে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। এক্ষেত্রে বিএসইসির পক্ষ থেকে আইনি ছাড়সহ বেশকিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ১৩ জন শেয়ারধারী পরিচালক যাদের কাছে কোম্পানিটির ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে তাদের মাধ্যমে পর্ষদ গঠন করতে হবে। নতুন পরিচালকদের সবসময় কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ ধারণ করতে হবে। চুক্তি অনুসারে লেনদেনের পর পুরো ১ কোটি ৫৪ লাখ ১৯ হাজার ৩০৯টি শেয়ার দুই বছরের জন্য লকড ইন থাকবে। চুক্তি অনুসারে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ১০ শতাংশ এবং এর সাবসিডিয়ারি ও অন্যরা মিলে আরো ৩৩ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার কেনার কথা ছিল। সব মিলিয়ে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালক তাদের কাছে থাকা কোম্পানিটির ৪৩ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সানলাইফের জীবন বীমা তহবিল হয়েছে ৪০ কোটি ১১ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি কোম্পানিটির পর্ষদ। লোকসানের কারণে ২০২১ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়নি।
২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানিটি ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৯ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। আগের হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ পাননি কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল সানলাইফ।
২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে আসা সানলাইফের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির কোনো রিজার্ভ নেই। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩৬ দশমিক ১৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৮ দশমিক ৪৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইতে গত এক বছরে সানলাইফের শেয়ারদর ৫২ টাকা ২০ থেকে ৬৬ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।










