জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে অনেকদিন ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর নিজেদের প্রভাব কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাণিজ্যিক বিমান চালক প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু কোনোভাবেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। খনিজ জ্বালানির কোনো উপযুক্ত বিকল্প খুঁজে পাচ্ছিল না প্রতিষ্ঠানগুলো। জেট ইঞ্জিন ও টার্বোপ্রপসের মতো যেসব বিকল্প ছিল সেগুলোকেও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। ব্যাটারি প্রযুক্তি আরো উন্নত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ব্যবস্থা মোটামুটি অবাস্তব বলে নেয়া নেয়া হচ্ছিল।

তবে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইলিসিয়ান এ ধরনের প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে শুরু করতে যাচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের বাণিজ্যিক সূচনা এটিই। তাদের প্রাথমিক এই উড়োজাহাজ একবার রিচার্জে ৮০৫ কিলোমিটার উড়তে এবং ৯০ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

প্রতিষ্ঠানটির ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক রেনার্ড ডি ভ্রিস বলেন, আমাদের কাছে যে ব্যাটারি প্রযুক্তি এরই মধ্যে রয়েছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেটা করা গেলে ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক বিমানে অপেক্ষাকৃত বেশি মাইলেজ পাওয়া সম্ভব। উপযুক্ত চাহিদা তৈরি করা গেলে ২০৫০ সালের পরও এ ধরনের প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

ই৯এক্স (ইনাইনএক্স) নামের প্লেনটি এখনো পর্যন্ত ধারণার মধ্যেই আছে। ইলিসিয়ান আগামী ৩ বছরের মধ্যে এটিকে নকশায় রূপান্তর করবে বলে আশার কথা জানায়। আর আগামী ৬ বছরের মধ্যে তারা এর একটি পূর্ণাঙ্গ আদিরূপও বানাতে চায়।

ইলিসিয়ানের প্রকৌশলীরা বলছেন, যদি তাদের পরিকল্পনার সঠিক রূপান্তর করা যায়, তাহলে এ ধরনের উড়োজাহাজ মানুষের কল্পনার চেয়ে বেশি দূরত্ব পর্যন্ত উড়তে পারবে।

উড়োজাহাজটিতে আটটি প্রপেলার ইঞ্জিন থাকবে। এবং পাখার স্প্যান থাকবে প্রায় ১৩৮ ফুট (৪২ মিটার)। অভিনব এই নকশা প্লেনের ভারবহন ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলবে। আধুনিক নির্মাণকৌশল এবং অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে এটিতে। নতুন ধরনের এই নকশাটি করেছে নেদারল্যান্ডসের বৃহত্তম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি। তারা ইলেকট্রিক এভিয়েশন নিয়ে যে গবেষণাপত্র তৈরি করেছে, তার অন্যতম গবেষক ছিলেন ইলিসিয়ানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রব উলেসউইঙ্কেল।

তবে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ বাস্তবে রূপ দেয়ার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বন্দরগুলোর অবকাঠামো এর জন্য একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। চার্জিং স্টেশনও একটি চিন্তার বিষয়। কেননা এটি রিচার্জের জন্য তেল লোড করতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগবে। তা সত্ত্বেও এ প্রযুক্তি বাজারে এলে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব বলে আশাবাদী ইলিসিয়ান।