ডাকটিকিটের মূল্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দেশটির ডাক পরিষেবা সংস্থা দি ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিস (ইউএসপিএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এরই মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ডাকটিকিটের বর্তমান মূল্য ৬৩ সেন্ট থেকে ৬৬ সেন্টে বাড়ানোর আবেদনও জানিয়েছে। চলমান মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, ইউএসপিএস চলতি বছরের জানুয়ারিতে এরই মধ্যে ডাকটিকিটের মূল্য ৬০ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ৬৩ সেন্ট করার অনুমোদন পেয়েছে। এখন ডাক নিয়ন্ত্রক কমিশনের অনুমোদন পেলে নতুন মূল্য ৯ আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হবে। ডাক সংস্থাটি জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবেলায় এ পদক্ষেপ জরুরি। প্রতিবেদন বলছে, ইউএসপিএসের বোর্ড অব গভর্নররা মূল্য পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে। এ পরিকল্পনার লক্ষ্য প্রথম শ্রেণীর ডাকের সামগ্রিক মূল্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো। চূড়ান্তভাবে এটি অনুমোদিত হলে এটি সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের তুলনায় এটি ৩২ শতাংশ বাড়বে। ওই সময়ে ডাকটিকিটের মূল্য ৫ সেন্ট বাড়িয়ে ৫৫ সেন্ট করা হয়েছিল।

প্রথম শ্রেণীর ডাকটিকিট দিয়ে ইউএসপিএসের মুনাফা ক্রমেই বাড়ছে। এর মূল্যবৃদ্ধি অন্যান্য শ্রেণীর পরিষেবা ঘাটতির ক্ষতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। তথ্য বলছে, দেশটিতে প্রথম শ্রেণীর ডাকটিকিট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিঠি পাঠাতে এবং বিল পরিশোধ করতে ব্যবহার হয়। সাধারণত এটিই সংস্থাটির সর্বোচ্চ আয়ের উৎস। বিদায়ী বছরে ডাকটিকিট থেকে ইউএসপিএস মোট মুনাফা করেছে ৭ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ডাকটিকিট থেকে এসেছে ২ হাজার ৪২০ কোটি ডলার বা মোট মুনাফার ৩১ শতাংশ। 

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউএসপিএস জানিয়েছিল, ২০২২ সালের শেষ তিন মাসের আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৫০ কোটি ডলার, যা বছরওয়ারি ১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে সামগ্রিকভাবে ১৭০ কোটি বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ডাকটিকিট কম বিক্রি হয়েছে। ফলে ওই প্রান্তিকে ১০০ কোটি ডলারের নিট ক্ষতির মুখে পড়ে ডাক সংস্থাটি। তথ্য বলছে, প্রথম শ্রেণীর ডাকটিকিটের মুনাফা ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক দিয়ে বছরওয়ারি যা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৫ লাখ ৮৭ হাজার কমেছে। 

রয়টার্সের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রথম শ্রেণীর ডাকটিকিট বিক্রির পরিমাণ এখনো কভিড-১৯ মহামারীর আগের স্তরের তুলনায় কম। এ প্রসঙ্গে ইউএসপিএসের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল কর্তকর্তা জোসেফ করবেট বলেছিলেন, ‘উচ্চমূল্যস্ফীতি আমাদের সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’