পাম অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ইন্দোনেশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল ভারত। কিন্তু দেশটির রফতানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সেই বাণিজ্য কিছুটা শ্লথ হয়ে আসে। ভোজ্যতেলটির আমদানিতে তখন মালয়েশিয়াকে বেশি প্রাধান্য দিতে শুরু করেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। তবে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া রফতানি শুল্ক কমিয়ে এনেছে। যে কারণে আবারো দেশটি থেকে পাম অয়েল আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত। তবে তা কতদিন স্থায়ী হবে সেটি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বাজারবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি আগস্টের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাম অয়েল আমদানি করছে ভারত। মালয়েশিয়ার তুলনায় ইন্দোনেশিয়া দেশটি থেকে বেশি ক্রয়াদেশ পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত পাম অয়েল (সিপিও) রফতানিতে শুল্ক আরোপের পর থেকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি কমিয়ে দেয় ভারত। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে আমদানি বাড়াতে থাকেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক ভারতের বাজারে হিস্যা কমে আসে জাকার্তার।
ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ মালয়েশিয়া। এ দুই দেশ থেকেই চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানি করে ভারত, যার বড় অংশই আসত ইন্দোনেশিয়া থেকে। কিন্তু আমদানি খরচ বাড়ার জেরে কয়েক মাস ধরে মালয়েশিয়ামুখী ছিলেন ক্রেতারা।
ভারতের ভোজ্যতেলবিষয়ক বাণিজ্যিক সংগঠন দ্য সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসইএ) এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বিপণন মৌসুমে (নভেম্বর-অক্টোবর) পাম অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে এতদিন ভারতের পছন্দের শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়া। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে ২৬ লাখ ১০ হাজার টন পাম অয়েল আমদানি করেছে ভারত। বিপরীতে এ সময় ইন্দোনেশিয়া থেকে কিনেছে ২২ লাখ ১০ হাজার টন।
খরচ বিবেচনায় দীর্ঘদিন থেকেই ইন্দোনেশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল আমদানি করে ভারত। কিন্তু রফতানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে দেশটি থেকে আমদানি খরচ বেশি হয়। এ কারণে কয়েক মাস ধরে দেশটি থেকে সিপিও আমদানি কমিয়ে দিতে থাকেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে বাজার হারানোর শঙ্কায় গত জুন থেকে শুল্ক কমিয়ে আনে জাকার্তা। ফলে আবারো আমদানি বাড়াতে থাকেন ব্যবসায়ীরা, যা আগামীতে অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারতের ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকলেও তা কতটা স্থায়ী হবে সেটি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ভোজ্যতেলটির চাহিদা বাড়লেও এ মুহূর্তে পণ্য পরিবহনে জাহাজীকরণ খরচ বেশি হচ্ছে। জাহাজ সংকটে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা সহসাই কাটবে বলে মনে হয় না।
ভারতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাহাজ ভাড়া নেয়া এখন খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। গত জুলাই থেকে এ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে টনপ্রতি খরচ বেড়েছে ৬ ডলার।










