সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন খরচ নিম্নমুখী রয়েছে। মহামারীর রেকর্ড উচ্চতা থেকে গত বছর এ খরচ ৯০ শতাংশ কমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে চাহিদা দুর্বল হওয়ার বিষয়টি এ ব্যয় কমাতে সহায়তা করেছে। আবার এ খাতে আগামী দুই বছরে কনটেইনার পরিবহন করা দুই শতাধিক নতুন জাহাজ যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে এশিয়া-আমেরিকা রুটে পণ্য পরিবহন ব্যয় আরো কমবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ২০ ফুটের কনটেইনার সক্ষমতার জাহাজ সরবরাহ করা হবে। ২০২৪ সালে আরো ২৮ লাখ ৩০ হাজার ২০ ফুটের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতার জাহাজ যুক্ত হবে।
বৈশ্বিক কনটেইনার বুকিং প্লাটফর্ম ফ্রেইটোসের তথ্য অনুসারে, এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ২০ ফুট কনটেইনার পরিবহন ভাড়া গত সপ্তাহে ২ হাজার ৪৭৯ ডলারে নেমেছে। এ ব্যয়ের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ শতাংশ কম।
কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিলের পর বিশ্বজুড়ে তুমুল ভোক্তা চাহিদা কনটেইনার পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে তোলে। ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে চীনে লকডাউন শিথিলের পর দেশটির রফতানিও বেড়ে যায়। তবে বিশ্বের প্রধান বন্দরে কনটেইনার ঘাটতি রফতানিকারকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবিলম্বে পণ্য সরবরাহ করতে তারা কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করতেও আগ্রহী ছিল। সব মিলিয়ে শিপিং ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে দেশে মূল্যস্ফীতিও রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়।
তবে এখন উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তারা অতি প্রয়োজনীয় নয় এমন কেনাকাটা এড়িয়ে চলছেন এবং তারা পণ্য থেকে পরিষেবার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এ অবস্থায় ইউরোপ ও এশিয়ার কারখানাগুলোও উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ায় আমদানির চাহিদাও কমে গিয়েছে। ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানে এশিয়া ও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়াদেশ দুর্বল প্রবৃদ্ধি কিংবা হ্রাস পাচ্ছে। শিপিং ব্যয় কমে গেলেও তা এখনো প্রাক-কভিড পর্যায়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রয়ে গিয়েছে।
৫-১০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপোয় (সিআইআইই) হ্যাপাগ-লয়েড শিপিংয়ের সিনিয়র সেলস ম্যানেজার কেভিন গাও বলেন, শিপিং রেট আরো কমতে যাচ্ছে। নতুন জাহাজ সরবরাহ সম্ভবত অতিরিক্ত সক্ষমতার সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলবে।
বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য মেলা সিআইআইইতে যোগদানকারী কিছু কার্গো অপারেটর জানিয়েছেন, চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক ত্যাগ করে এবং বিদেশী পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়ালে বৈদেশিক বাণিজ্য আরো বাড়বে। এতে অতিরিক্ত শিপিং সক্ষমতার প্রভাবও কমে আসবে।
শিপিং কোম্পানি প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইনসের সাংহাই শাখার জেনারেল ম্যানেজার সাইমন সান বলেন, ৬৫টি দেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) গ্রহণ করেছিলেন। এ উদ্যোগ বিদেশে সৌর প্যানেলের মতো যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের চাহিদা তৈরি করেছে। এটি মালবাহী মূল্য খুব বেশি কমে যাওয়া ঠেকাতে পারে। কারণ পুরো শিপিং খাত এখন অতিরিক্ত ক্ষমতার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে আগামী মাসগুলোয় পণ্য পরিবহনের হার স্থিতিশীল থাকবে বলেও মনে করছি আমরা। বর্তমানের শিপিং রেটটি গ্রহণযোগ্য এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন করার প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুনাফায় রাখতে পারবে।
সাংহাই জাম্প ইন্টারন্যাশনাল শিপিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক জিওং হাও বলেন, বিশ্বজুড়ে শিপিং ব্যয়ে বড় ধরনের পতন হতে পারে। মূলত বিষয়টি নির্ভর করবে চীনের সঙ্গে বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর বাণিজ্যের ওপর। পণ্য পরিবহনের হার কমে গেলে ব্যবসায় টিকে থাকতে শিপিং কোম্পানিগুলোকে ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার খরচ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।










