গত বছর করোনা মহামারীর ধাক্কায় ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে এক বছর ধরে দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা ছিল নিম্নমুখী। ফলে ধাতুটির উৎপাদনে ধস নামে। তবে চলতি বছর দেশটির ইস্পাত খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বছরের প্রথম আট মাসে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ইনফোমেরিকস ভ্যালুয়েশন অ্যান্ড রেটিংস সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ভারতে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি এসেছে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইনফোমেরিকস সম্প্রতি ‘স্টিল ইন্ডাস্ট্রি: ট্রেন্ডস অ্যান্ড প্রসপেক্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানায়, ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদনের পাশাপাশি চলতি অর্থবছর শিল্প ধাতুটির রফতানিও বেড়েছে, যা গত অর্থবছরের রফতানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে গত অর্থবছরের রফতানিকে ৭০ শতাংশ অতিক্রম করেছে চলতি অর্থবছরের রফতানি। অন্যদিকে এ বছরও ইস্পাত আমদানিতে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঊর্ধ্বমুখী রফতানির বিপরীতে আমদানির ব্যবধান কমে যাওয়ার মানে হলো ইস্পাতে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে ভারত।

ভারতের জিডিপিতে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখে ইস্পাত খাত। দেশটির অর্থনৈতিক ভিত শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে খাতটি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এ খাতে। এ বছর ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন ও রফতানি সত্ত্বেও কিছু চ্যালেঞ্জ খাতসংশ্লিষ্টদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি। তবে দেশটির সরকার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে টেকসই উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে।