নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেও চলতি বছর খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকবে। এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

সংস্থাটির ‘ফুড আউটলুক বাইঅ্যানুয়াল রিপোর্টে’ বলা হয়, কভিডকালে খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় বৃদ্ধি পায়। এ সময় অন্যান্য পণ্যের তুলনায় কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি ত্বরান্বিত হয়েছিল। এ বছর চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও স্থিতিশীল থাকবে বাণিজ্য।

এএফওর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১ সালে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক আমদানি বিল দাঁড়াবে ১ দশমিক ৭২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। সংস্থাটি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি খাদ্যপণ্য আমদানিতে উচ্চব্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে খাদ্যসংকটে থাকা দেশগুলো। আমদানি ব্যয় বাড়লে এসব দেশে খাদ্য সরবরাহ আরো সংকুচিত হতে পারে।

ফুড আউটলুক রিপোর্টের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পণ্যের সরবরাহ ও চাহিদার পরিমাণ নিরূপণ করে এফএও। খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস, দুগ্ধপণ্য ও মাছ—এসব পণ্যের ওপর ভিত্তি করেই এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পাশাপাশি এ খাদ্যপণ্যের ফিউচার মার্কেট ও জাহাজীকরণ ব্যয়ের পরিমাণ নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়। দুই বছরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ রিপোর্ট তৈরি করে এফএও।

সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরের অবশিষ্ট মাসগুলোতে প্রধান প্রধান খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তবে চিনি উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে বলে জানায় এএফও। মূলত বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণে আখের আবাদ ব্যাহত হওয়ায় দেশটির চিনি উৎপাদনে ধস নামতে পারে।

এদিকে তেলবীজ ও তেলবীজজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা। চলতি বছর পণ্যটি চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে এফএও জানায়, গম ও চালের বৈশ্বিক সরবরাহ ক্রমে ফুলেফেঁপে উঠছে। ফলে চলতি বছর কৃষিপণ্য দুটির উৎপাদন বাড়লেও বৈশ্বিক মজুদ হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও। এটি পশুখাদ্য ও শিল্প খাতে শ্বেতসারের ব্যবহার বড় পরিসরে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও কৃষিপণ্য রফতানি এর আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছে এফএও। এ সময় বিশ্ববাজারে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের খাদ্য ও কৃষিপণ্য রফতানি করা হয়। রফতানি প্রবৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রফতানি বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্য ৮ শতাংশ বাড়বে। এ সময় ১৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রফতানি করা হবে। মূলত পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে চাহিদার উল্লম্ফন রফতানিতে এমন প্রবৃদ্ধি বয়ে আনবে। আমদানিতেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

এফএও বলছে, অন্যান্য পণ্যের তুলনায় খাদ্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যসংকটে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে আমদানি ব্যয় ২০ শতাংশ বাড়তে পারে, যা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। সংস্থাটি জানায়, করোনা মহামারীর ধাক্কায় যেসব দেশের পর্যটন ও রফতানি আয় কমে গিয়েছিল, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।