চলতি বছরও প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজার অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার বিপরীতে জ্বালানিটির সরবরাহ কম। পাশাপাশি আবহাওয়া পরিস্থিতিও এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। খবর রয়টার্স।
ইউরোপে জ্বালানিটির মজুদ বৈশ্বিক মূল্য পরিস্থিতির জন্য বড় নির্দেশক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের শীত মৌসুমে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক থাকতে পারে। এর পরও জ্বালানিটির বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকবে।
ভূরাজনৈতিক বৈরিতার কারণে গত বছর ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয় রাশিয়া। এতে বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম নজিরবিহীন বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিমাণ বাড়াতে শুরু করে। এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দামও ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে আসে।
জার্মান ইউটিলিটি ইউনিপারের সিইও মাইকেল লিউইস বলেন, ‘চলতি বছর ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার আগের চেয়ে অনেক ভালো। শিল্প খাতে চাহিদা কমে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বমুখী মজুদ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। তবে এর পরও ব্লকটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম অস্থিতিশীল থাকতে পারে। বর্তমানে মজুদ পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলতি বছর মজুদ অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পরিপূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। ইতিবাচক সব বিষয়ই আমাদের সামনে উপস্থিত। কিন্তু দামের বিষয়টি অনেক বেশি সংবেদনশীল। বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই ভঙ্গুর। দাম বাড়া-কমার ক্ষেত্রে বর্তমানে তাপমাত্রা প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। তবে আমরা বিষয়টির সঙ্গে মানিয়ে উঠছি।’
জ্বালানি জায়ান্ট শেভরনের এক নির্বাহী বলেন, ‘স্পট মার্কেটে এলএনজির বৈশ্বিক দাম ২০২৫ সাল পর্যন্ত অস্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ইউরোপে চলতি বছর শীতের তীব্রতা কম থাকলেও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ না কাটলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।’
শীত মৌসুমে কয়লার চেয়ে এলএনজির দাম বেড়ে যায়। ফলে এশিয়ার অনেক ক্রেতাই এলএনজি কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। বিশ্লেষকরা জানান, বেশি দামের কারণে পাকিস্তান, ভারত ও চীনের অনেক ক্রেতাই এলএনজির পরিবর্তে অন্য জ্বালানিতে ঝুঁকতে পারে। বর্তমানে বাজারে এলএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তার ওপর আবহাওয়ায় নেতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা দিলে বা আসন্ন শীতে সরবরাহ ব্যাহত হলে বাজার ফের অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
মাইকেল লিউইস বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলোয় চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। কারণ নতুন নতুন গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। ফলে দু-তিন বছরের মধ্যে চ্যালেঞ্জ দ্বিগুণ হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার এলএনজি সক্ষমতা বাড়ানোয় ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়তে পারে বলেও আশাবাদী বাজারসংশ্লিষ্টরা।’










