ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ২৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গতকাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় মোট ২ হাজার ৪৯৬ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেয়া হয়; তাদের মধ্যে ২ হাজার ১৪০ জন স্নাতক ও ৩৫৬ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের। এছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য পাঁচ স্নাতককে দেয়া হয় চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল বা আচার্য স্বর্ণপদক এবং শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমান কৃতিত্বের জন্য অলরাউন্ডার স্বর্ণপদক পান একজন শিক্ষার্থী।
সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন; এডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া খান; উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম; উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ডিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আইইউবির রেজিস্ট্রার আসিফ পারভেজ।
সমাবর্তনে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, ‘গণতন্ত্র কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানুষ সচেতন হয়ে প্রশ্ন করে ও প্রয়োজন হলে কথা বললেই গণতন্ত্র টিকে থাকে। এ সচেতনতা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ নয়, ভাবনা, প্রশ্ন ও যাচাইয়ের শিক্ষা দেয়।’
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে শহীদুল আলম বলেন, ‘ডিগ্রি ও সাফল্য অর্থবহ হয় তখনই, যখন মানুষের জন্য কাজ করে পৃথিবীকে ন্যায্য করা যায়। এবার যারা ডিগ্রি পেলেন, তাদের দায়িত্ব এমন কিছু করা, যেন তাদের ছাপ থেকে যায়।’
পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা চিন্তা, কল্পনা ও দায়িত্ববোধ শিখেছে। এখন সেই প্রত্যাশা রক্ষা করার দায়িত্ব তাদেরই। ভালো-মন্দের পার্থক্য সবাই বোঝে, তবে শিক্ষিত ও আলোকিতদের তা আরো গভীরভাবে ও দায়িত্ব নিয়ে বিচার করতে হয়।’
আইইউবি পরিবার ও শিক্ষকদের সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বিকশিত হয়েছে বলে দাবি করে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন বলেন, ‘এখন থেকে তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত।’
উপাচার্য ড. ম. তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন এক প্রজন্ম, যারা জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জের নতুন ও সৃজনশীল সমাধান দিতে পারে। এজন্য দরকার কৌতূহল, বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি, পাশাপাশি মতভিন্নতার মধ্যেও শান্তি-সম্প্রীতির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।’
এবারের সমাবর্তনে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান নির্বাচিত হন চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেলজয়ী মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক সাজিদ বিন মোহাম্মদ। আচার্য স্বর্ণপদক পান হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তাসনুভা মাহমুদ, পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের আসাদুল্লাহ্ ইবনে মাসুদ ও জাহরা আলম লিয়া এবং ফার্মেসি বিভাগের নাজমুন নাহার। গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্স বিভাগের আহমদ তাওসিফ জামী অলরাউন্ডার স্বর্ণপদক লাভ করেন।










