যুক্তরাজ্যে ১৮ মাস ধরে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের (ওএনএস) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা মার্চের ১০ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় খানিকটা কম। যদিও বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস প্রদান করেছিলেন মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশের ঘরে নেমে আসার। যার অর্থ দাম কমেনি বরং ধীরগতিতে বাড়ছে। চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট সম্প্রতি বিবিসিকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির হার হ্রাসের খবরটিকে স্বাগত জানাই, তবে বিদ্যমান পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যুদ্ধ শেষ হয়নি। আমাদের এখনো অনেক দূর যেতে হবে।’ বিশ্বের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশ রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সংঘর্ষের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এদিকে ইউক্রেন শস্য ও সূর্যমুখীর বড় উৎপাদক, যা রুটি, তেল ও পশুখাদ্যসহ সবকিছুতে ব্যবহার হয়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেন থেকে পণ্য রফতানি ব্যাহত হওয়ায় পাইকারি খাদ্যের দাম বেড়েছে। তাছাড়া রয়েছে বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টিও, যা শস্য, শাকসবজিসহ চিনি তৈরিতে ব্যবহৃত বিটের উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ওএনএসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি রেকর্ড বৃদ্ধির কাছাকাছি। রুটি, সিরিয়াল, মাছ, দুধ ও ডিমের মতো প্রধান খাবারের দাম ধীরগতিতে হলেও বাড়ছে। এ সম্পর্কে ওএনএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রান্ট ফিটজনার বলেন, ‘ব্যবসাগুলো কী ধরনের দামের সম্মুখীন হচ্ছে ও দেশীয় খাদ্যসামগ্রীর জন্য কতটা অর্থ প্রদান করছে—বিষয়টির দিকে তাকালে আমরা দেখি খাদ্যমূল্য গত মাসের বার্ষিক ১৫ শতাংশ থেকে কমে চলতি মাসে ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে। তাছাড়া আমদানি করা খাবারের জন্য কোম্পানিগুলো যে দাম দিচ্ছে তাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’—বিবিসি