সিঙ্গাপুরে বাড়ি ভাড়া ক্রমাগত বাড়ছে। সারা বিশ্বের মধ্যে এ হার দ্রুততম। ফলে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীরা বেশ বিপাকে পড়েছেন। তবে তারাই একমাত্র ভুক্তভোগী নয়। দেশটির অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরাও বাড়ি ভাড়া বাড়ার ফলে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে আগে তারা ভর্তুকি পেতেন। বর্তমানে তারা সরকারের এ ভর্তুকি কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছেন। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন তারা। এর প্রভাব দেশটির আগামী নির্বাচনে ভালোভাবেই পড়বে। খবর ফ্রি মালেশিয়া টুডে।
বাড়ি ভাড়ার বাড়ার ফলে বিপাকে পড়া এসব তরুণ-তরুণীর একজন সোনাম। ৩৩ বছর বয়সী এ প্রযুক্তিকর্মী বর্তমানে থাইল্যান্ডে বাস করছেন। সিঙ্গাপুরে তিনি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দুই বছরের চুক্তিতে সে বাড়ির ভাড়া একবারেই ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে দেন বাড়ির মালিক। বাধ্য হয়ে সিঙ্গাপুর ছেড়ে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান এ তরুণী। এতদিন তিনি ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির সমর্থক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দলকে ভোট দেবেন বলে জানান সোনাম। এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সহস্রাব্দে কী হচ্ছে তা নিয়ে তারা মোটেই সচেতন নয়। সিঙ্গাপুরে টিকে থাকতে আমাদের কী দরকার, তা তারা জানেই না। বিষয়টি খুবই অদ্ভুত।’
পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) জন্য আবাসন সমস্যা সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলটির নেতৃত্বে শিগগিরই বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলের পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। তিনি সিঙ্গাপুরের জাতির পিতা ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউর পুত্র।
সিঙ্গাপুরের পিপলস অ্যাকশন পার্টির একাধিপত্য। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো রাজনেতিক দল ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তবে সম্প্রতি এ দলের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কমেছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে তা স্পষ্ট হয়েছে। সে নির্বাচনে ৮৯ শতাংশ সংসদীয় আসন নিয়ে সরকার গঠন করে পিএপি। কিন্তু তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিশেষত তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে তারা জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন তাই তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার কথা বলেছেন। তরুণদের ভিন্নতর জীবনবোধ ও প্রাধান্যের বিষয় আছে বলে জানান তিনি। সেসব দিকে মনোযোগ দিতে নীতিনির্ধারকদের তিনি আদেশ দেন। তরুণদের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং।
সিঙ্গাপুরে বাড়ি ভাড়া বাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এ সমস্যা সমাধানে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার। গত মাসে প্রবাসীদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমানে স্ট্যাম্প ডিউটি ক্রয়মূল্যের ৩০ শতাংশ। শিগগিরই তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হবে। স্ট্যাম্প ডিউটির ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোয় এ হার সর্বোচ্চ। তাছাড়া আবাসন নির্মাণে আরো বেশি জমি বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার।
দেশটির বর্তমান অর্থমন্ত্রী লরেন্স উং। অচিরেই তিনি লি সিয়েনের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে জাতির উদ্দেশে তিনি বক্তৃতা দেন। ভাড়ি বাড়া বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নেন। কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়ও বাড়ছে বলে জানান তিনি।










