আগে যেখানে দিনের পর দিন অপেক্ষা আর ব্যাংকের ঝক্কি সামলানো লাগত, সেখানে প্রযুক্তির কল্যাণে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন হাতে থাকা ফোনেই সারাবিশ্ব থেকে রেমিটেন্স চলে আসছে তাৎক্ষণিক। এতে একদিকে যেমন সময়ের সাশ্রয় হচ্ছে , অন্যদিকে কমেছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। আর তা সম্ভব হয়েছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর কল্যাণে।

পুরানো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রুপালি বেগম বলেন, “সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে আছে। ছেলের পাঠানো টাকা তুলতে অর্ধেক দিন লেগে যেত। রোদে পুড়ে লম্বা রাস্তা হেঁটে ব্যাংকে যেতে হতো, সেখানে আবার লাইনে দাঁড়ানো। সবচেয়ে বড় ভয় ছিল টাকা নিয়ে ফেরার পথে। ব্যাগটা শক্ত করে ধরে রাখতাম, রাস্তার প্রতিটি ছায়াও যেন এক একটা আতঙ্ক মনে হতো।”

তবে এখন তিনি ঘরে বসেই রেমিটেন্স পেয়ে যাচ্ছেন নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে। যতটুকু প্রয়োজন ততোটুকু টাকা তুলে নিচ্ছেন বাড়ির পাশের বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে। আবার, এই অ্যাকাউন্ট থেকেই স্কুল পড়ুয়া নাতনির সহায়তায় দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুতের বিলও।

কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে মালয়েশিয়ায় বাস করেন তাঁর ছেলে রহমান উল্লাহ, পেশায় একটি নির্মাণ সংস্থার সুপারভাইজার। তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে এই দেশে কাজ করি, আগে টাকা পাঠাতে সারাদিন খাটা-খাটনির পর মানি এক্সচেঞ্জ হাউসে যেতে হতো, কাগজপত্র পূরণ করতে হতো। সেই টাকা পৌঁছাতে লাগতো আবার কয়েকদিন। তবে বছরখানেক আগে প্রথমবারের মতো সরাসরি মায়ের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাই, যা পৌঁছে যায় মাত্র এক মিনিটে। তখনই বুঝলাম দেশে টাকা পাঠানোর সবচেয়ে ভালো উপায় বিকাশ। কারণ এটা নিরাপদ, দ্রুত, আর প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করতে পারি।”

এই সুবিধা সম্ভব হয়েছে বিকাশের বিস্তৃত রেমিটেন্স ইকোসিস্টেমের কারণে। ১৭০টি দেশ থেকে ১৩৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরের (এমটিও) মাধ্যমে প্রবাসীরা বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারছেন যা দেশীয় ২৭টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো একটির মাধ্যমে সেটেলমেন্ট হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায় প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে। দীর্ঘ লাইন, কাগজপত্র আর দেরির ঝামেলা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন যেন এসএমএস পাঠানোর মতো সহজ। বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠালে প্রবাসী ও পরিবার শুধু নিরাপদ থাকেন না, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পায়।

আবার বিকাশ-এ আসা রেমিটেন্সের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয় সরকার প্রদত্ত ২.৫% প্রণোদনাও (প্রতি হাজারে ২৫ টাকা। পাশপাশি, গ্রাহকরা দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের প্রায় ২,৫০০ এটিএম বুথ থেকে ক্যাশ আউট করতে পারেন প্রতি হাজারে মাত্র ৭ টাকায়।

নানা সুবিধার পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিকাশ নিয়ে এসেছে বিভিন্ন পুরস্কার। রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে, দেশে রেমিটেন্স গ্রহণকারীরা জিতে নিতে পারেন নির্দিষ্ট আউটলেট থেকে ইলেকট্রনিক পণ্যের কেনার জন্য ১ লাখ টাকার মেগা কুপন। আবার সাপ্তাহিক বিজয়ীরাও পাচ্ছেন ৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার ডিসকাউন্ট কুপন।

বিদেশে থাকা প্রবাসীদের জন্যও পুরস্কারগুলো সমান আকর্ষণীয়। কোন দেশ থেকে কোন এমটিও পার্টনারের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে তারা জিতে নিতে পারেন গাড়ি, আইফোন ১৭, ল্যাপটপ, অ্যাপল ওয়াচসহ নানা উপহার। কিছু পার্টনার আবার শূন্য ফি’তে টাকা পাঠানোর সুবিধা ও বাংলাদেশে রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটও দিচ্ছে ।