আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শস্য খাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি মৌসুমে দেশটি বিশ্ববাজারে শস্য রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর ওপর মনোযোগ দিয়েছে। দেশটির সবচেয়ে বেশি রফতানিযোগ্য খাদ্যশস্য ভুট্টা। মূলত শস্যটি সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার শস্য রফতানি আরো জোরদার করবে। করোনা মহামারীর প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক অবস্থাও দোদুল্যমান। তবে কৃষিপণ্য উৎপাদনে মহামারীর বড় কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েনি দেশটিতে। ফলে ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটি শস্য উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।

ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি) দক্ষিণ আফ্রিকার মোট শস্য উৎপাদনের ওপর একটি প্রাক্কলন প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২০-২১ মৌসুমে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৮৬ লাখ টনে। গত মৌসুমে দেশটি মোট ১ কোটি ৮০ লাখ টন শস্য উৎপাদন করেছিল। সে হিসেবে উৎপাদন বাড়বে ছয় লাখ টন। এর মধ্যে গম উৎপাদনের পরিমাণ গত মৌসুমের তুলনায় বেড়ে ২১ লাখ টনে দাঁড়াবে। গত মৌসুমে শস্যটি উৎপাদন করা হয়েছিল ১৫ লাখ টন। দেশটি ২০২০-২১ মৌসুমে মোট ১ কোটি ৫৮ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ টন। এদিকে জোয়ার (এক ধরনের খাদ্যশস্য) উৎপাদন চলতি মৌসুমে এক লাখ টনে পৌঁছার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত মৌসুমে শস্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল দুই লাখ টন। আইজিসি বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়মিত বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। ফলে খাদ্যশস্যের ফলন ও উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।

এদিকে উৎপাদন ভালো হওয়ায় চলতি বছর শস্য খাতে দেশটির আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শস্য রফতানি বাড়াবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার শস্য আমদানি কমে ২২ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। গত মৌসুমে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৯ লাখ টন। এর বিপরীতে দেশটির শস্য রফতানি গত মৌসুমের তুলনায় বেড়ে ২৮ লাখ টনে দাঁড়াবে। আগের মৌসুমে রফতানির পরিমাণ ছিল ২১ লাখ টন। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা শস্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করে গম। চলতি মৌসুমে শস্যটির আমদানি কমে ১৯ লাখ টনে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে আমদানি করা হয়েছিল ২৪ লাখ টন। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি রফতানি করা হয় ভুট্টা। দেশটি চলতি মৌসুমে ২৭ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করবে। এর আগের মৌসুমে রফতানি করা হয়েছিল ১৯ লাখ টন।

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় বাজারে ভুট্টার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যটির রফতানি বাজারও চাঙ্গা। এছাড়া শস্যটি আবাদের জন্য দেশের আবহাওয়া অত্যন্ত অনুকূল। সবকিছু মিলিয়ে উৎপাদনকারীদের মধ্যে ভুট্টা আবাদ ও বাজারজাতে আগ্রহ বাড়ছে।

ইউএসডিএর দেয়া তথ্যমতে, স্থানীয় বাজারে ভুট্টার দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি যারা বাণিজ্যিকভাবে ভুট্টা আবাদ করছেন, তাদের আবাদ বাড়ানোর জন্য প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। বছরজুড়েই শস্যটির বাজারদরে ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকবে বলে মনে করছে ইউএসডিএ ও সংশ্লিষ্টরা।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে জিম্বাবুয়েতে আগামী মাসগুলোতে ভুট্টার চাহিদা পাল্লা দিয়ে বাড়বে। ভুট্টার প্রচুর মজুদসমৃদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা দেশটিতে চাহিদামাফিক ভুট্টা সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ।

এদিকে ইউএসডিএর পূর্বাভাস বলছে, ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা আট লাখ টন সূর্যমুখী ও ১৪ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন করবে। সে হিসেবে গত মৌসুমের তুলনায় সূর্যমুখী তেলবীজ উৎপাদন ৯ শতাংশ ও সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন ৮ শতাংশ বাড়বে।