তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্পের কারণে এলএনজি আমদানি থেকে বেরিয়ে আসছে গ্রিস। পাঁচ বছরের মধ্যে গত এপ্রিলে প্রথমবারের মতো মাসব্যাপী কোনো এলএনজি আমদানি করেনি দেশটি। খবর ফ্রেইট নিউজ।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের কমোডিটি ইনসাইটস ডাটা অনুযায়ী, গত বছরে গ্রিস প্রতি মাসে ৩৪ হাজার থেকে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের এপ্রিলে ৬৭ হাজার টন এলএনজি আমদানি করে। পরের দুই বছরের একই সময়ে এ হার বেড়ে দ্বিগুণ ছাড়িয়েছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলে ১ লাখ ৩ হাজার টন ও পরের বছরের একই সময়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলএনজি আমদানি করে গ্রিস।
গ্রিস গ্যাস ব্যবস্থাপনা সংস্থা ডেসফার বার্ষিক এলএনজি আনলোডিং প্ল্যান অনুসারে, দেশটির ক্রেতারা মাসে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সংশোধন আনেন সে পরিকল্পনায়। গ্রিসের কনগ্লোমারেট মাইটিলিনিওস দুই ধাপে পরিকল্পনা সংশোধন করে চালান স্থগিত করে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এলএনজির চালান বাতিল ও পরিমাণ সংশোধনের জন্য আমদানিকারককে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সাধারণত আনলোডিং প্রোগ্রাম মাস শুরু হওয়ার ৪৫ দিন আগে ঘোষণা করা হয়। এর আগে বাতিল করা হলে কোনো জরিমানা দিতে হয় না। কিন্তু ৪৫ দিন থেকে ডেলিভারি তারিখের যেকোনো দিন বাতিল করার জন্য কার্গো আকার অনুসারে ৫-২০ শতাংশ ফি দিতে হয়।
এলএনজি আমদানি নিয়ে পরিকল্পনা সংশোধনের প্রবণতা নতুন নয়। এপ্রিলের আগে থেকে গ্রিসে কার্গো বাতিল হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এলএনজির কার্গো সংখ্যা পাঁচ থেকে কমিয়ে দুটিতে সংশোধন করা হয়েছিল। এরপর মার্চে চারটি থেকে কমিয়ে দুটিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) গ্রিস প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম বলে জানিয়েছে এসঅ্যান্ডপি।
বাজার সূত্র অনুসারে, বিকল্প মাধ্যমে তুলনামূলক সস্তা গ্যাস পাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে এলএনজি চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।
ভূমধ্যসাগরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী জানান, পাইপলাইনের গ্যাস এখন অনেক সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া পাইকারি সরবরাহকারীদের সঙ্গে মধ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে ৪-৫ শতাংশ ছাড় রয়েছে।










