সাম্প্রতিক সময়ে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর পেছনে কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১ অক্টোবর ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ৬৩ টাকা ২০ পয়সা। এর পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকা ২০ পয়সা। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪৫ টাকা ৭০ থেকে ৭৯ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২৮ শতাংশ কমেছে। তথ্য অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৬৫ পয়সা। সে হিসাবে তিন প্রান্তিকের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ২৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এছাড়া চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ইপিএস কমেছে। চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৮৮ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৪৫ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১৬ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫২ টাকা ৪৯ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৫১ টাকা ৫২ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৩৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৫২ পয়সায়, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৭ টাকা ৩৩ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪৭ টাকা ৩৩ পয়সায়। ২০১৯, ২০১৮, ২০১৭ ও ২০১৬ হিসাব বছরে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারহোল্ডাররা ২০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন।
১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন-লাইফ বীমা কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৯৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ১৪৪। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৪৫ দশমিক ৮৬, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ১২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৬ দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।










