চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফ্রান্স ও স্পেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লক্ষণীয়। জার্মানির পুনরুদ্ধার গতিতেও মন্দার আঘাত কাটিয়ে ওঠার ছাপ স্পষ্ট। ইউরোভুক্ত দেশগুলো বেরিয়ে এসেছে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা থেকে। মহামারী, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ ও ব্যাংক খাতের বিধ্বস্ত অবস্থা দিয়ে যে সংকট ঘনীভূত হয়েছিল, তা অনেকটাই অপস্রিয়মাণ। খবর সিএনএন।
সরকারি জরিপ বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ফ্রান্সের জিডিপি বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে বৈদেশিক বাণিজ্য। ফ্রান্সের পরিসংখ্যান ব্যুরো অনুসারে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে রফতানি সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে আমদানি সূচক। অন্যদিকে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেনের জিডিপি ছিল দশমিক ৪ শতাংশ। জার্মানির অর্থনীতি তুলনামূলক মন্থর। কিন্তু আগের প্রান্তিকগুলোর তুলনায় বেড়েছে অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি। ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিক কিংবা গত বছরের শেষ প্রান্তিকেও দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক।
জার্মান পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে গৃহস্থালি ভোক্তা খরচ স্থিতিশীল রূপ লাভ করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরো অঞ্চলের জিডিপি প্রকাশ করা হবে শিগগিরই। প্রকাশের আগে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা রাখি ইউরো অঞ্চলে জিডিপির হার সম্প্রসারণ হবে। জাতীয় উপাত্ত প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন পরিস্ফুটিত হবে প্রতিবেদনে। বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রবৃদ্ধি প্রভাব ফেলবে সার্বিক পরিসংখ্যানে।’
পরপর দুটি প্রান্তিকের সংকোচনের পরই ইউভুক্ত দেশগুলোয় অর্থনীতি সম্প্রসারণ হচ্ছে। দেশগুলোয় গতিশীল হচ্ছে অর্থনৈতিক কার্যক্রম। মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত সুদহার সর্বোচ্চ অবস্থানেই। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের এক জরিপে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ইউরো অঞ্চলে জিডিপি বৃদ্ধির হার দশমিক ৬ শতাংশে স্থির থাকবে। তিন মাস আগের পূর্বাভাসে দেশটির জিডিপি ২০২৪ সালে ১ দশমিক ১ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়।
মূল্যস্ফীতি কমে আসা ও মজুরি বৃদ্ধির হার প্রভাব ফেলছে ভোক্তাব্যয়ের ক্ষেত্রে। কিন্তু সুদহার বৃদ্ধি ও আরো বাড়ানোর আশঙ্কা এখনো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে রেখেছে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উৎপাদন খাতে শ্লথগতি ও চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর পুনরুদ্ধার গতির কারণে সার্বিকভাবে অর্থনীতির মন্থরতা তৈরি করেছে। তবে পরিষেবা খাতের স্থিতিশীলতার কারণে আংশিক গতি পেয়েছে অন্যান্য।
মাত্র ৭ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ইউরোপের জন্য সামনে আরেকটি মন্দা পর্ব রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের আগে। কিন্তু অধিকাংশের ভাষ্য, মন্দার আশঙ্কার সময় পার হয়ে গেছে। যদিও কিছুটা ক্ষত এখনো বিদ্যমান। ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। ১৯৯৯ সালে ইউরো শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বেশি সুদহার। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট হতে পারছেন না, আরো একবার সুদহার বাড়ানো হবে, নাকি এভাবেই চলতে থাকবে।
ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুত। সেপ্টেম্বরের সভায় নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। হতে পারে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে। তবে সুদহার কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত আসেনি। বাণিজ্যিক ঋণের চাহিদা দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল সবচেয়ে কম। তাছাড়া সব ধরনের ক্যাটাগরিতেই ব্যাংক ঋণের নীতি সংকুচিত হয়েছে। পৃথক জরিপে দেখা যায়, জুলাইয়ে অষ্টম মাসের মতো সংকুচিত হয়েছে।
পারচেজিং ম্যানেচার্জ ইনডেক্স (পিএমআই) অনুসারে, উৎপাদন ও পরিষেবা কার্যক্রম কমে জুলাইয়ে ৪৮ দশমিক ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা জুনে ছিল ৪৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে থাকলে উৎপাদন ও পরিষেবা কার্যক্রমের সংকোচন এবং বেশি থাকলে প্রসারণকে বোঝায়।










