ফিউচার মার্কেটে গতকাল মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমেছে। বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ বৃদ্ধি এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সাশ্রয়ী মূল্য থাকায় ক্রেতারা পাম অয়েলের চেয়ে সয়াবিন ক্রয়ে বেশি ঝুঁকছেন। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে গতকাল টনপ্রতি পাম অয়েলের দাম কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বা ৬০ রিঙ্গিত (১ হাজার ৪৩১ টাকা ২২ পয়সা)। প্রতি টনের মূল্য উঠেছে ৩ হাজার ৬৬১ রিঙ্গিতে (৮৭ হাজার ৩২৮ টাকা ৫৪ পয়সা)।

বাজার সূত্র বলছে, শীত মৌসুমে পাম অয়েল জমে যাওয়ায় কিছুটা অসুবিধায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। তাই শীতকালে ভোজ্যতেলটির চাহিদা কিছুটা নিম্নমুখী হওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করেন না বিশ্লেষকরা।

এদিকে গত বছরে মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম ২০২২ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ কমেছে। ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা রিঙ্গিত শক্তিশালী হওয়ায় এবং বছরজুড়ে পাম অয়েলের চাহিদা কমায় ভোজ্যতেলটির এ দরপতন ঘটেছে বলে মনে করেন মুম্বাইভিত্তিক ট্রেডিং ফার্ম কান্তিলাল লক্ষ্মীচাঁদ অ্যান্ড কোংয়ের ট্রেডিং ম্যানেজার মিতেশ সাইয়া।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিকল্প অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম ওঠানামা করায় পাম অয়েলের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ভোজ্যতেলটির বাজার নিম্নমুখী হওয়ার পেছনে ভূরাজনৈতিক সংকট, উৎপাদন হ্রাস ও মূল্যস্ফীতি কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নেয়া নানা কঠোর পদক্ষেপ প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ২০২৩ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও ১৩ শতাংশ কমেছে। এতে বায়োডিজেল তৈরিতে পাম অয়েলের ব্যবহার কমেছে, যা উদ্ভিজ্জ তেলটির চাহিদা কমাতে ভূমিকা রেখেছে।