গম আমদানি বন্ধ ও অপ্রতুল সরবরাহের কারণে দিনাজপুরের হিলিতে সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা ও মোড়কজাত আটা-ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কজাত আটা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ময়দা। তবে কিছু ভালো মানের ময়দা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব ময়দা ৫-৭ টাকা কমে বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া খোলা আটা আগে ৫৭ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে আটা কিনতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, কিছুদিন আগেও ১০০ টাকায় ৩ প্যাকেট আটা কিনেছি, কিন্তু এখন একই টাকায় দুই প্যাকেট আটাও মিলছে না।

হিলি বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী নির্মল কুমার প্রামাণিক বলেন, প্রতিদিন আমার হোটেলে ২০ থেকে ২৫ কেজি ময়দার প্রয়োজন হয়। কিন্তু হঠাৎ করে আবারো ময়দার দাম বাড়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। আমাদের ব্যয় বাড়লে সে অনুপাতে খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। কিছুদিন আগেও ৭৪ কেজির ময়দার বস্তা কিনেছি ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এখন ৩৭ কেজির ময়দার বস্তা কিনতে হচ্ছে একই দামে। ময়দার দাম দ্বিগুণ বেড়েছে।

হিলি বাজারের মুদি দোকানি পলাশ কুমার বলেন, যে দামে মোকাম থেকে আটা কিনছি তার ওপর ভিত্তি করেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আটা ও ময়দার দাম তো বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়তি। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগের তুলনায় কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। মোকামে দাম বাড়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলছে তাদের ডিও নেই। ফলে মিলগুলো থেকে চাহিদামাফিক আটা-ময়দা পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম আমদানি কমেছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, আমাদের জনবল সংকট সবচেয়ে বড় সমস্যা। তার পরও সরকার ঘোষিত নীতিমালার বাইরে যারা পণ্যের মূল্য বেশি নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। অবৈধভাবে দাম বৃদ্ধি বন্ধে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সে সঙ্গে ভেজাল ও নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি এবং প্রতারণা রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।