পণ্য আমদানি-রফতানি কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কমেছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ বাড়ছে। বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি টাকায়। কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছরের শুরু থেকেই বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না। পাশাপাশি বৈশিক করোনা সংকটে রাজস্ব ঘাটতি বেড়েছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের জন্য ১ হাজার ১৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ সময় রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৯৮ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৪৪ কোটি ৫২ লাখ, আগস্টে ৫৭ কোটি ৬৩ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৭৩ কোটি ৩০ লাখ, অক্টোবরে ৭১ কোটি ২৮ লাখ, নভেম্বরে ৭৪ কোটি ২৮ লাখ, ডিসেম্বরে ৫৫ কোটি ২৭ লাখ, জানুয়ারিতে ৫৯ কোটি ২০ লাখ এবং সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ২৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৫৬০ কোটি ৪ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৬১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ বন্দর হওয়া সত্ত্বেও সবধরনের পণ্য আমদানি করতে পারেন না তারা। আবার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও সীমিত থাকার কারণে অন্য বন্দরমুখী হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বন্দর দিয়ে আমদানি কমছে। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন এ বিষয়ে বলেন, করোনা মহামারী সংকট আর ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানিতে বাধার ফলে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভোমরা বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। ভোমরা বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা যদি সবধরনের পণ্য আমদানি করতে পারতেন, তাহলে করোনা সংকট কাটিয়েও সরকারের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ সম্ভব হতো।
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, পণ্য আমদানির ওপর নির্ভর করে বন্দরে রাজস্ব বেশি-কম হয়। ভোমরা বন্দরে এত বেশি পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা যাওয়া। করোনার কারণে এটি তৈরি হয়েছে। তবে এর বাইরে ব্যবসায়ীদের সবধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি না দেয়া অন্যতম প্রধান কারণ। পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তরিত হওয়ার পরও ব্যবসায়ীরা সব পণ্য আমদানি করতে পারেন না। রাজস্ব কম হওয়ার এটাও একটি কারণ।
এ বিষয়ে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন বণিক বার্তাকে জানান, বৈশিক মহামারী করোনার কারণেই মূলত রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। করোনা সংকটের জন্য বন্দরের
ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না। ফলে রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে অর্থবছরের বাকি পাঁচ মাসে ঘাটতি যতটা কমানো যায়, তার চেষ্টা থাকবে।










