জার্মান স্পোর্টসওয়ার ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস ও র‍্যাপার কেনি ওয়েস্টের যৌথ প্রয়াসে ২০১৫ সালে বাজারে আসে ইজি। স্নিকার্স জুতার এডিশনটি শুরুর দিকে সাড়া ফেললেও বর্তমানে ক্রেতারা এটি থেকে অনেকাংশেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে কেনির অ্যান্টি-সেমেটিক মন্তব্যের পর থেকে অ্যাডিডাসের পণ্যটির বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কেনির ওই মন্তব্যের পর অ্যাডিডাসের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হলেও ইজির বড় একটি লট এখনো অবিক্রীত। এ নিয়ে বড় ধরনের চাপে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

গতকাল প্রকাশিত আয়-ব্যয়ের উপাত্তে অ্যাডিডাস জানায়, প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি ৪ শতাংশ কমে ৫০৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীদের বিষয়টি সামলানোর জন্য একটি ঐক্যমতে পৌঁছতে হবে।

তবে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, অ্যাডিডাসের নতুন প্রধান নির্বাহী বিওয়েন গলডেন পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারেন। সাবেক এই পুমা ব্র্যান্ডের নির্বাহী ৪ নভেম্বর অ্যাডিডাসের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়ার পর থেকে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। যদিও অ্যাডিডাসের পক্ষ থেকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল, ইজি জুতার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিলে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি ৭০ কোটি ডলারের লোকসানের মুখে পড়তে পারে।  বিওয়েন গলডেন বলেন, ‘কেনির ইহুদি-বিরোধী মন্তব্যের জেরে অনেকেই আহত হয়েছেন। অ্যাডিডাস পাদুকা নিয়ে আলোচনা জারি রয়েছে। যার কোনো সহজ সমাধান নেই।’

এদিকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার পর রিসেল মার্কেটে ইজির কিছু মডেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। যদিও কোম্পানিটি এখনো এর অবিক্রীত স্টক নিয়ে কী করবে তা সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এ নিয়ে আমেরিকান জুইশ কমিটির পরিচালক হলি হাফনাগল বলেন, ‘অ্যাডিডাস যদি তাদের জুতা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচেষ্টার দিকে যেতে হবে।’

মার্চে বিওয়েন গলডেন বলেছিলেন, তারা ইজির বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত আয় দাতব্য সংস্থায় দান করতে পারে। তবে অ্যাডিডাসের পক্ষ থেকে এরপর এ বিষয়ে আর কোনো আপডেট দেয়া হয়নি। যদিও অ্যাডিডাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, আমরা বিকল্প মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছি।