তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্রোকারেজ হাউজকে শেয়ার বেচাকেনা নিয়ে নির্দেশ দেব না এবং কৃত্রিমভাবে সূচক ধরে রাখার চেষ্টা করব না। তবে কারসাজি বা অস্বাভাবিক দরপতন ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গতকাল রাজধানীতে পুঁজিবাজার নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। ‘‌বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শিরোনামে এ আলোচনা আয়োজন করে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ খান বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার দ্বিতীয় দিনেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম বাধা “‍‌ফ্লোর প্রাইস” তুলে দেয়া হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে “‍মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল” (এমএসসিআই) বাংলাদেশকে পুনরায় তাদের সূচকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকেই এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া লন্ডনের স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মার জিডিআর-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত জটিলতা সমাধান করা হয়েছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ব্যক্তিশ্রেণীর শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ডের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কর চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

নতুন কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা সমালোচনা করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে তালিকাভুক্ত হতেই বছরের পর বছর চলে যায়। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে “‍এক্সটেন্ডেড অডিট” চালু করা হচ্ছে। এখন থেকে কোম্পানিগুলো সরাসরি ঢাকা বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে আইপিও আবেদন জমা দেবে। বিএসইসি সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলবে না। এক মাসের মধ্যে এ আইপিও রুলস চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে হাইব্রিড ও তালিকাভুক্তির ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো কোম্পানি তার ১০ শতাংশ মূলধন বাজারে ছাড়তে চাইলে এর ৫ শতাংশ পাবলিকের কাছে আইপিওর মাধ্যমে দিতে পারে এবং বাকি ৫ শতাংশ অফলোড করতে পারে। এতে কোম্পানি একদিকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, অন্যদিকে শেয়ারও বাজারে ছাড়তে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইনি কাঠামোর জটিলতা দূর করতে “‍বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অর্ডিন্যান্স” এবং “‍সিকিউরিটিজ অ্যাক্ট” একত্র ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিএসইসির বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মামলা সরাসরি গ্রহণের আইনি এখতিয়ার বা “‍কগনিজেন্স” বৃদ্ধির প্রস্তাব এরই মধ্যে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিকিউরিটিজ আইনের ২০(এ) ধারার আওতায় “‍জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি”র সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে বিশেষ কিছু ক্যাটাগরির ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে বাধ্য করার বিধিমালাও তৈরি হচ্ছে।’

ছয় মাসের মধ্যেই দেশের বন্ড বাজারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাবে দাবি করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে বন্ড মার্কেট নিয়ে অনেক কথা হয়। এখানে মূল সমস্যা হলো ফি। আমরা বন্ড মার্কেটের ফি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছি। এর ফল ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাবে। ডিএসইর মূল বোর্ডে অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে। এতে মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বাজার থেকে বন্ড কেনার সুযোগ পাবে। বন্ডে আকর্ষণীয় রিটার্নের সুযোগ থাকায় এ বাজার দ্রুত বিকশিত হবে।’

তদারকি ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, ‘বাজারের ক্লিয়ারিং ব্যাক-অফিস অটোমেশনের জন্য সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিপিএল) পরিচালনা পর্ষদ এক মাসের মধ্যে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সিডিবিএল, স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিদেশী কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ “‍‌টি প্লাস ওয়ান” ট্রেডিং সাইকেল বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো কথা বলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রিচার্ড ডি রোজারিও, ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও মেসবাহ উদ্দিন প্রমুখ।