কয়েক হাজার সুদৃশ্য বাড়ি এখানে কংক্রিট আর শ্বেতপাথরের খাঁচা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে জনবিচ্ছিন্ন ও আংশিক পরিত্যক্ত আবাসন প্রকল্পটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এক অদ্ভুত কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে।

তাদেরই একজন শাশা চেন। চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাইয়ের একটি উচ্চ বেতনের ফাইন্যান্সের চাকরি ছেড়ে দিয়ে হাঁপিয়ে ওঠা তরুণী এখন এ নিভৃত লোকালয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। গতানুগতিক করপোরেট জীবনের দৌড় থেকে মুক্তি পেতে তার মতো অনেক ‘বার্নড-আউট’ তরুণই এখন এ ‘পরিত্যক্ত’ ভেনিসকে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশে ইতালীয় ভেনিসের আদলে গড়া এ কৃত্রিম শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য শাশা চেনকে মাসে গুনতে হয় ১ হাজার ২০০ আরএমবি বা ১৬৮ ডলার। জিয়াংসুর অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে আবাসন খরচ এতটাই কম যে মাত্র ২৮ বছর বয়সেই চেন কর্মজীবন থেকে অবসর নেয়ার সাহস দেখিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে দেশটির আবাসন বাজারে ধস নামায় বর্তমানে অনেক তরুণ সস্তায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা সাংহাই বা বেইজিংয়ের মতো ব্যয়বহুল শহর ছেড়ে ছোট শহর বা আংশিক পরিত্যক্ত এলাকাগুলোয় পাড়ি জমাচ্ছেন, যেখানে জীবনযাত্রার খরচ নামমাত্র।

কয়েক বছর আগে চীনের আবাসন বাজারে ধস নামার পর বিশাল ‘লাইফ ইন ভেনিস’ প্রকল্পের বাড়ির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। এমনকি এ এলাকার রেস্তোরাঁগুলোয় এক বেলা নুডলস বা রাইস মিল মিলছে মাত্র ৩ ডলার বা তারও কম মূল্যে।

চীনের অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে উচ্চ বেতনের প্রযুক্তি ফার্মগুলোয় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা এবং সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কাজ করতে হয়। চীনে এটি ‘৯৯৬ কালচার’ নামে পরিচিত। হাড়ভাঙা খাটুনি আর তীব্র মানসিক চাপের মুখে অনেক তরুণ পেশাজীবী এখন কর্মজীবনকে পুরোপুরি বিদায় জানাচ্ছেন। তারা ‘লাইয়িং ফ্ল্যাট’ বা ‘ট্যাং পিং’ নামক এক প্রতিবাদী আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। যেখানে ক্যারিয়ার আর পুঁজিবাদের মোহ ছেড়ে এক স্বল্প-চাহিদার জীবন বেছে নেয়া হচ্ছে। —খবর ও ছবি এপি