ভারতে গত অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় চিনি উৎপাদন কমেছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার টনে। শীর্ষ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন কমে যাওয়া এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী। দেশটিতে চিনির মৌসুম ধরা হয় ১ অক্টোবর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে। এ হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের (২০২৩-২৪) প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সম্প্রতি রয়টার্সের বিশ্লেষকরা এক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, ভারতে চিনি উৎপাদন অব্যাহত কমছে। এল নিনোর প্রভাবে এ ধারা চলতি বছরও অব্যাহত থাকতে পারে। এতে আগামী বছরগুলোয় পণ্যটি আমদানির পথে হাঁটতে হতে পারে শীর্ষস্থানীয় এ রফতানিকারক দেশকে।

এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে চিনি রফতানি বন্ধ রেখেছে ভারত। ছয় বছর ধরে শীর্ষ রফতানিকারকের স্থানে থাকা ভারত আমদানিমুখী হয়ে পড়লে ভোগ্যপণ্যটির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ভারতে প্রায় পাঁচ কোটি কৃষক আখ চাষ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হয়। কিছু জাত ১০ মাসে পরিপক্ব হয় এবং বাকিগুলো পরিপক্ব হতে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় নেয়। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক ঘুরে ২০০ জনেরও বেশি কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ এ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্ববাণিজ্যের ১২ শতাংশ চিনি সরবরাহ করে ভারত। গত পাঁচ বছরে দেশটি গড়ে ৬৮ লাখ টন চিনি রফতানি করেছে।

ভারতের ৮০ শতাংশ চিনি উৎপাদন হয় পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে। অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এ দুই প্রদেশে উৎপাদন কমে গেছে।

ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে প্রথম প্রান্তিকে মহারাষ্ট্রে চিনি উৎপাদন ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে নেমেছে ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টনে। একই সময়ে কর্ণাটকে উৎপাদন কমেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। রাজ্যটিতে উৎপাদনের পরিমাণ নেমেছে ২৪ লাখ টনে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে চিনি উৎপাদন ১২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ টনে। দেরিতে আখ মাড়াই শুরু করার কারণে রাজ্যটিতে উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ বলছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সাত বছরের মধ্যে এবারই প্রথম চিনির সরবরাহ ঘাটতিতে পড়তে পারে ভারত।