চলতি শতকের মাঝামাঝিতে কার্বন নিঃসরণ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে চাচ্ছে চীন।
সে লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ধাতব পণ্য উত্তোলন লক্ষণীয়ভাবে কমিয়ে আনা হচ্ছে।
এতে শিল্প উপকরণের দাম কয়েক দফা বাড়তে পারে।
খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
করোনা মহামারীর জেরে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার বেড়েছে শিল্প উপকরণের দাম।
২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন কমাতে হচ্ছে চীনের।
এতে দাতব পদার্থের দাম বাড়ছে।
তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পুরো শিল্প খাতেই।
বিএমওর বিশ্লেষক কলিন হ্যামিলটন বলেন, আপনি নিশ্চিত দেখতে পাবেন আগামী দিনগুলোতে রফতানি কমছে।
ইস্পাত ও তামার মতো বিভিন্ন শিল্প উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে ভূমিকা পালন করেছে চীনের বিশাল জোগান।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চাচ্ছেন, ২০৬০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্বন নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দাঁড়াক বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি।
এতে দাতব শিল্প খাতকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত মাসে এক খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করেছে চীনের পরিবেশ ও বাস্তু সংস্থানবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এতে জ্বালানিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্বন নিঃসরণের হিসাবাদি সংরক্ষণ ও প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ নির্দেশনার আওতাভুক্ত হবে তাপবিদ্যুৎ, পেট্রোকেমিক্যালস, কয়লা থেকে রাসায়নিক তৈরি, ইস্পাত, ধাতব পণ্য ঢালাই ও সিমেন্ট এ ছয় খাত।
শিল্প উপকরণের বৃহত্তম ভোক্তা দেশ হচ্ছে চীন।
এ কারণে যেকোনো ধাতব পদার্থের দাম বাড়লে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব পড়বে এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে।
রূপান্তরিত ধাতব পণ্য, পরিশোধিত তেলজাত পণ্যেরও বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ হচ্ছে চীন।
চীনের বাজারে শিল্প উপকরণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী।
বিশ্বের ৫৬ শতাংশ ইস্পাত ও ৫৭ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক দেশ চীন।
এগুলো উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি প্রয়োজন।
ম্যাকুয়ারির বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের বাইরে অন্যান্য দেশের ইস্পাত উৎপাদনে আহামরি পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গত এক দশকে তাদের উৎপাদন মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে।
করোনা মহামারী থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শিল্প খাত চাঙ্গায় গত বছর ১১০ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে চীন।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার শুরুতে আবাসন খাতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাতের দাম চলতি মাসে রেকর্ড সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি প্ল্যাটসের তথ্যমতে, ২০২০ সালের আগস্টের তুলনায় ইস্পাতের দাম প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়ে চলতি মাসে টনপ্রতি ১ হাজার ৬৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।










