ভারতে চিনির মজুদ ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির চিনিকলগুলো চলতি বিপণন মৌসুমে রেকর্ড সর্বোচ্চ চিনি রফতানি করায় মজুদে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের শুরুতে পণ্যটির মজুদ কমে চার বছরের সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে। খবর রয়টার্স।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি উৎপাদক। দেশটির চিনির মজুদ কমতে শুরু করায় বৃদ্ধি পাচ্ছে দাম। ফলে আগামী বিপণন মৌসুমে পণ্যটির রফতানিতেও ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। এটি বিশ্ববাজারে চিনির মূল্যবৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (ইসমা) এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী অক্টোবরে ভারতে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শুরু হবে। এ সময় চিনির মজুদ কমে ৮৭ লাখ টনে নেমে আসবে। চলতি মৌসুমের একই সময় মজুদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৭ লাখ টন। সে হিসাবে মজুদ ১৯ শতাংশ কমবে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১-২২ মৌসুমে ভারত ৩ কোটি ১০ লাখ টন চিনি উৎপাদনে সক্ষম হবে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ কোটি ৯ লাখ টন। সে হিসাবে উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দেবে।

চলতি বছর আখ আবাদের জন্য ভারতের আবহাওয়া যথোপযোগী। ফলে আখের আবাদ ৩ শতাংশ বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু এবার উৎপাদিত আখ থেকে চিনির পরিবর্তে ইথানল উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াচ্ছে দেশটি।

বাজারসংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বিপণন মৌসুমে ভারতের চিনি রফতানির পরিমাণ বেড়ে ৭০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে, যা এক বছরের রেকর্ড সর্বোচ্চ। সে হিসাবে রফতানি বেড়েছে ১৮ শতাংশ।