বিশ্বের শীর্ষ চা আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান। দেশটি কেনিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি চা আমদানি করে। তবে কেনিয়ার পরিবর্তে তানজানিয়া থেকে চা আমদানি শুরু করলে পাকিস্তানের কয়েক লাখ ডলার সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন তানজানিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট পল কোই। খবর ট্রিবিউন।

কোরাঙ্গি অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেএটিআই) ব্যবসায়ী ও পাকিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফসিসিআই) সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা জানান পল কোই। তিনি বলেন, পরিমাণের দিক দিয়ে চা পাকিস্তানের প্রধান আমদানি পণ্য। দেশটি কেনিয়া থেকে যে চা আমদানি করে তার এক-তৃতীয়াংশই তানজানিয়ায় উৎপাদন হয়। কিন্তু চাসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত সুবিধার অভাবে দেশটি পিছিয়ে পড়েছে। ফলে কেনিয়া চাসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য তানজানিয়া থেকে আমদানি করে তা বিশ্ববাজারে রফতানিতে সুবিধা পাচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে পারলে আমরা এসব পণ্য সরাসরি রফতানি করতে পারব।

পল জানান, তানজানিয়ার কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত, ফার্মাসিউটিক্যালস, শিল্পোৎপাদন ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

তার ভাষ্যমতে, তানজানিয়া একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। এ দেশের অর্থনীতি কৃষি, খনিজ সম্পদ এবং পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। তানজানিয়ার জিডিপিতে ৭০ শতাংশ অবদান রাখে খনিজ সম্পদ। তানজানিয়া বিশ্বের বৃহৎ কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী দেশ বলে উল্লেখ করেন পল। বিশেষ করে অ্যাভোকাডো এবং ড্রাই ফ্রুটস উৎপাদনে দেশটির সুনাম রয়েছে। তানজানিয়ার পাহাড়, সমুদ্রসৈকত এবং ন্যাশনাল পার্কের বর্ণনা দিয়ে পর্যটন খাতেও পাকিস্তানকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান পল কোই।

কেএটিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সেলিমুজ্জামান বলেন, পাকিস্তান ও তানজানিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সংস্কৃতিগত দিক থেকেও দেশ দুটির মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্কে লক্ষণীয় উন্নয়ন দেখা যায়নি। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এফসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ সুলতান রেহমান জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাকিস্তান ও তানজানিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়ে ১০ কোটি ৭৪ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাণিজ্যের পরিমাণ আরো বেড়ে ১৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাকিস্তান তানজানিয়ায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ডলারের পণ্য ও সেবা রফতানি করে। এ সময় তানজানিয়া থেকে আমদানি হয় ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য ও সেবা।