যুক্তরাজ্য ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই হলে ১৬ শতাংশ ব্যবসা সম্প্রসারণ ঘটবে। ব্রিটিশ সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দেয়া হয়েছে। খবর আরব নিউজ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লন্ডনে গত মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত উভয় পক্ষের চতুর্থ দফার আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। উভয় পক্ষই চুক্তির ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইংল্যান্ডের ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগের মতে, এফটিএ একটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুযোগ এবং যুক্তরাজ্য ও জিসিসির সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
৬ হাজার ১৩০ কোটি পাউন্ড বা ৭ হাজার ৮২৯ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যমানের বাণিজ্যসহ জিসিসি অঞ্চল যুক্তরাজ্যের সপ্তম বৃহৎ রফতানি বাজার। লন্ডনে গত ১৭-২৮ জুলাই পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে চতুর্থ দফা আলোচনায় অংশ নেয় দুই পক্ষ। চলতি বছরের শেষ দিকে জিসিসির আয়োজনে পঞ্চম রাউন্ড আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, উভয় পক্ষ ২৩টি নীতিগত বিষয়ে টেকনিক্যাল আলাপসহ ৪৪টি সভায় অংশ নেয়। গত মে মাসে পাঁচদিনের জিসিসি সফরের অংশ হিসেবে রিয়াদ সফরের সময় ব্রিটেনের সেক্রেটারি অব স্টেট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড কেমি ব্যাডেনোচ জিসিসি-যুক্তরাজ্যের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি তুলে ধরেন।
আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। সব পক্ষের সুবিধা নিশ্চিত করেই আমরা উপসংহারে পৌঁছব। তার সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য ও এফটিএ চুক্তি আলোচনা সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা। প্রতিটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে উভয় পক্ষই কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়, যেমন বাণিজ্যে উন্নতি ও বাজারের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে।’
এপ্রিলে প্রকাশিত ডেলয়েট প্রতিবেদন অনুসারে, এ আলোচনার ফলাফল হিসেবে আগামী বছরগুলোয় যুক্তরাজ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক করিডোর উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে ডিলয়েটের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিচালক ও প্রধান জেমস ক্যালডেকোর্ট বলেছেন, ‘২০৩৫ সালের মধ্যে জিসিসির পণ্য ও পরিষেবা আমদানির চাহিদা ৩৫ শতাংশ বা ৮০ হাজার কোটি পাউন্ড সমপরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফল এফটিএ আলোচনার অর্থ দ্রুত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ব্রিটিশ বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা আরো সুরক্ষিত হবে।’










