কোটা আন্দোলন ও চলমান কারফিউর কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভোজ্যতেলের মজুদ কমে এসেছে। মজুদ কমে যাওয়ায় পণ্যটির ক্রয়াদেশ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাড়তি চাহিদার কারণে দেশের পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। দুদিনের ব্যবধানে পাম অয়েল ও সয়াবিনের দাম বেড়েছে মণপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, গত সপ্তাহে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পরিশোধিত পাম অয়েল বেচাকেনা হয়েছিল ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৯০০ টাকায়। দুদিনের ব্যবধানে মিলগেট থেকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য পাম অয়েলের দাম বেড়ে গতকাল বেচাকেনা হয়েছে ৫ হাজার টাকায়। অন্যদিকে সুপার পাম অয়েলের দাম ১০০-১২০ টাকা বেড়ে মণপ্রতি ৫ হাজার ২০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে।
পাইকারিতে গতকাল সয়াবিন তেল বেচাকেনা হয়েছে মণপ্রতি ৫ হাজার ৭০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন সরবরাহ বন্ধের পর ক্রয়াদেশের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মিলগেট থেকে সরাসরি লোড হওয়া ভোজ্যতেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘সহিংসতার কারণে কয়েক দিন ধরে ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ ছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই পুনরায় বেচাকেনা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ভোজ্যতেলের অর্ডার দিচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা চালু এবং চাহিদা বাড়লে দাম আরো বাড়তে পারে।’
খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকলেও গতকাল থেকে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় ক্রয়প্রবণতায় ফিরেছেন ব্যবসায়ীরা। যেকোনো সময় ব্যাংক চালুর আশায় পণ্যের বুকিং দিতে শুরু করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কয়েক দিনের জমে থাকা পণ্য উত্তোলন শুরু হওয়ায় পরিবহন খরচসহ দামও বেড়ে গেছে। চাহিদার ঘাটতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নিত্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেলের বাজার কিছুটা বাড়তি থাকতে পারে।’
অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা মার্কেটে আসেননি। যার কারণে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বেড়েছে। বোতলজাত ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ না থাকায় বর্তমানে পাইকারি বাজার থেকে খোলা ভোজ্যতেল আনার চেষ্টা করছেন তারা। এ কারণে পাইকারি বাজারেও ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
চট্টগ্রামের ভারী শিল্প এলাকা কালুরঘাটের মেসার্স মালতী এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় দে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাজার দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল ছিল। বিশ্ববাজারে বুকিং দর স্থিতিশীল থাকায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে চাহিদামতো ভোজ্যতেল সরবরাহ হয়নি। যার প্রভাবে পাইকারি পর্যায়ে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। শুধু গতকাল পাম অয়েল ও সয়াবিনের মণপ্রতি দাম ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।’










