কভিডজনিত বিধিনিষেধের মধ্যে পর্বতসম চাহিদার মুখোমুখি হয় অ্যামাজন। মানুষের চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপের কারণে কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনলাইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ভোক্তারা। বিপুল পরিমাণ মুনাফাও পায় মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্টটি। এতে পুঁজিবাজারেও সংস্থাটির শেয়ারদরে উল্লম্ফন দেখা দেয়। তবে বর্তমানে অনলাইনের পরিবর্তে সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করতে আগ্রহী ভোক্তারা। আবার চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় তারাও অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় ভাটা পড়েছে চাহিদায়। সব মিলিয়ে সংস্থাটির শেয়ারদরে পতন দেখা দিয়েছে। এতে প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে অ্যামাজন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইটস টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আর্থিক নীতি কঠোর করা এবং মুনাফার হতাশাজনক পূর্বাভাসের সংমিশ্রণে পুঁজিবাজারে অ্যামাজনের শেয়ারদর নিম্নমুখী রয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৬ মাসে সংস্থাটির বাজারমূল্য ১ লাখ কোটি ডলার কমে গিয়েছে। সর্বশেষ বুধবারও সংস্থাটির শেয়ারদর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এতে ই-কমার্স ও ক্লাউড কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে। যেখানে ২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য রেকর্ড ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল।
মহামারীর মধ্যে তুমুল চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে ছিল। উইন্ডোজ সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের শীর্ষ বাজারমূল্য থেকে ৮৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার হারিয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রযুক্তি স্টকগুলো নিম্নমুখী রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মন্দার আশঙ্কা। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। উচ্চমূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় আগামী বছর বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদ। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরাও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কারণ অর্থনৈতিক মন্দায় চাহিদা কমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানে পড়তে পারে।
আয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পাঁচটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য চলতি বছর প্রায় ৪ লাখ কোটি ডলার কমে গিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি খুচরা বিক্রিতে তীব্র মন্দার সঙ্গে ব্যবসা সামঞ্জস্য করতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ ক্রেতারা আবারো প্রাক-কভিড পর্যায়ের অভ্যাসে ফিরে যাচ্ছেন। অনলাইনের পরিবর্তে তারা দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করতে বেশি পছন্দ করছেন। মন্থর বিক্রি, ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান সুদের হারের মধ্যে অ্যামাজনের শেয়ারদর প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে।
ব্লুমবার্গের সংকলিত তথ্য অনুসারে, পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে অ্যামাজনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদ ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার থেকে কমে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে নেমেছে। গত মাসে ছুটির মৌসুমের সময় অ্যামাজনের ইতিহাসে সবচেয়ে ধীর আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কারণ উচ্চমূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ভোক্তারা ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই বছরের বেশি সময় পর অ্যামাজনের বাজারমূল্য ১ লাখ কোটি ডলারের নিচে চলে এসেছে।
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানিতে পরিণত হয় মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৩ লাখ কোটি ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ২ লাখ কোটি ডলারের বাজারমূল্য থেকে ৩ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে অ্যাপলের সময় লেগেছিল ১৬ মাস। আবার ১ লাখ কোটি থেকে ২ লাখ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হতে অ্যাপলের সময় লেগেছিল দুই বছর। তবে সে জায়গা থেকে চলতি মাসে আইফোন নির্মাতার বাজারমূল্যও ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি ডলারে নেমেছে।










