চলতি বছরের শুরু থেকে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে টানা লকডাউনে কার্যত স্থবির ছিল চীন। তবে দীর্ঘ লকডাউনের প্রভাব পড়েনি চীনের কয়লা উত্তোলন খাতে। বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) দেশটির খনিগুলো থেকে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর সিনহুয়া।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে চীনের খনিগুলো থেকে সব মিলিয়ে ১১৫ কোটি টন কয়লা উত্তোলন হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

এদিকে মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ এপ্রিলে চীনের খনিগুলো থেকে সব মিলিয়ে ৩২ কোটি টন কয়লা উত্তোলন হয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়লেও চলতি বছরের মার্চের তুলনায় এপ্রিলে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিপুল পরিমাণ উত্তোলন করলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার বড় একটি অংশ আমদানি করা কয়লা দিয়ে পূরণ করে চীন। করোনা মহামারীর লকডাউনের মাঝে চীনের উত্তোলন খাতের পাশাপাশি দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানিতেও চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চীনা আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১৩ কোটি টন কয়লা আমদানি করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

এদিকে মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের বাজারে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টন কয়লা আমদানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, ইস্পাত কারখানা ও গৃহস্থালি কাজকর্ম—চীনে এ তিন কাজে সবচেয়ে বেশি কয়লা ব্যবহার হয়।