সাম্প্রতিক সময়ে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিক বেড়েছে। এর পেছনে কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে কোম্পানিটি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১ নভেম্বর সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারদর ছিল ১১ টাকা ৬০ পয়সা। এরপর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী। সবশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে ২২ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। 

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি। 

আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৭ পয়সা। এ বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির মোট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৫৯ পয়সা।

সর্বশেষ ঋণমান অনুসারে, কোম্পানিটির এনটিটি রেটিং ‘‌বি ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ব্যাংক দায়ের তথ্য এবং রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিতিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)। 

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৭ পয়সা। এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ লোকসান ছিল ৭ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৯৬ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৬ টাকা ৫৩ পয়সা। 

২০২০-২১ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ২৪ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬ টাকা ৫৩ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৬ টাকা ৬০ পয়সা। 

এর আগে ২০১৯-২০ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর আগের দুই হিসাব বছরে যথাক্রমে ৫ শতাংশ ও  ১০ শতাংশ স্টক  লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। 

২০১৩ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১১৯ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪৪। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৬২ দশমিক ২৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।