আর্জেন্টিনার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানির জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে এশিয়া। বিশেষ করে আসন্ন শীতে এশিয়ার বাজারে এলএনজির চাহিদা যখন তুঙ্গে থাকবে, তখন লাতিন আমেরিকার দেশটি থেকে আমদানি বেড়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ অব্যাহতভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এশিয়ায় পরিবহন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ দামে এ অঞ্চলে জ্বালানি পণ্যটি সরবরাহ করতে পারবে আর্জেন্টিনা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার এলএনজি নিয়ে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। খবর হাইড্রোকার্বন ইঞ্জিনিয়ারিং।
এলএনজির বৈশ্বিক চাহিদার একটি মৌসুমি প্রবণতা রয়েছে। এ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছেই। আর্জেন্টিনার এলএনজি উৎপাদন সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি গ্রীষ্মকালে, আবার ওই সময় এশিয়ায় থাকে শীতকাল। শীতকালে এলএনজির চাহিদা সর্বোচ্চে পৌঁছায়। দুই অঞ্চলের এ মৌসুমি প্রবণতা এশিয়ার ক্রেতাদের আর্জেন্টিনা থেকে এলএনজি আমদানিতে প্ররোচিত করতে পারে।
এছাড়া এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ইস্যুও রয়েছে। আর্জেন্টিনার এলএনজি প্লান্ট থেকে এশিয়াতে পরিবহন খরচ যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের প্লান্টগুলো থেকে পরিবহনে ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হবে। পাশাপাশি ব্যস্ততম পানামা খালও এড়ানো সম্ভব। ফলে সামগ্রিকভাবে আর্জেন্টিনার এলএনজি যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির বিকল্প হয়ে ওঠার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
এদিকে আর্জেন্টিনার নিউকিন অববাহিকায় ভাকা মুয়ের্তা থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন শুরু হওয়ায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে এলএনজি উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৪ সাল নাগাদ আর্জেন্টিনা এলএনজির ব্যাপকভিত্তিক উৎপাদনে যাবে। নতুন গবেষণার ভিত্তিতে উড ম্যাকেঞ্জি অনুমান করছে, আর্জেন্টিনার এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা ২০২৪ সালে বার্ষিক ৬০ লাখ টনে পৌঁছাবে। ২০৩০ সালে উৎপাদন বেড়ে ১ কোটি টনে দাঁড়াবে।
এছাড়া ২০২৪ সালে আর্জেন্টিনার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের ১৫ শতাংশই আসবে ভাকা মুয়ের্তা থেকে। পাশাপাশি কনডেনসেট ও শুষ্ক গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্পগুলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পূর্ব উৎপাদনে আসবে।
ল্যাটিন আমেরিকা গ্যাস অ্যান্ড এলএনজির প্রধান বিশ্লেষক মৌরো চাভেস রদ্রিগেস সম্প্রতি হিউস্টোনের গ্যাসটেককে বলেন, ভাকা মুয়ের্তার উৎপাদন আর্জেন্টিনার গ্যাস সম্ভাবনার পুরো চিত্রই পাল্টে দিয়েছে। এ গ্যাসক্ষেত্রের কারণে এরই মধ্যে স্থানীয় শিল্পে সস্তায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি নতুন করে বৃহৎ পাইপলাইন নির্মাণের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভাকা মুয়ের্তায় উৎপাদনের যে সম্ভাবনা তাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী চিলি ও ব্রাজিলে রফতানি করাও যথেষ্ট হবে না। ফলে এর বাইরে বাজার খুঁজতে হবে।
চাভেস রদ্রিগেস বলেন, উত্তর আমেরিকার বাইরে যারা এলএনজি রফতানি করতে চায়, তাদের জন্য আর্জেন্টিনার এলএনজি লোভনীয় হতে পারে। এর উৎপাদন মৌসুম এশিয়ার বাজারের জন্য উপযুক্ত। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো তাদের সর্বোচ্চ চাহিদার মৌসুমে খুব কম খরচেই এখান থেকে এলএনজি নিতে পারবে।
এদিকে এশিয়ার কিছু রফতানিকারক এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার শেলের ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো শুরু করেছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস, চীনের সিএনওওসি ও কাতার পেট্রোলিয়াম এদেশে বিনিয়োগ










