রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইউক্রেনে হামলা চালায়। এরপর থেকেই দেশটিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। হামলার প্রভাব ও রফতানিসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার কারণে ইউক্রেনের কৃষকরা শস্য আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে ২০২৪-২৫ বিপণন মৌসুমে দেশটিতে খাদ্যশস্য আবাদ আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)।
এফএএসের এক পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মৌসুমে দেশটিতে মোট খাদ্যশস্য আবাদ আগের মৌসুমের তুলনায় ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর মধ্যে গমের আবাদ ৫ শতাংশ কমে ৪৮ লাখ হেক্টরে এবং ভুট্টার আবাদ ৮ শতাংশ কমে ৩৬ লাখ হেক্টরে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এফএএস জানায়, বর্তমানে খাদ্যশস্যের চেয়ে তেলবীজ আবাদ অনেক বেশি লাভজনক। এ কারণে কৃষকরা সূর্যমুখী তেলবীজ আবাদেই বেশি আগ্রহী। বিষয়টি শস্যের আবাদি জমি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে আবাদ কমে যাওয়ায় দেশটিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ৬ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে গম উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ১১ লাখ টনে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ২০ লাখ টন কম। গত মৌসুমে ইউক্রেনে ২ কোটি ৮৩ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা কমে ২ কোটি ৬৬ লাখ টনে নামতে পারে।
এফএএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ইউক্রেনের গম রফতানি ২৭ শতাংশ কমে ১ কোটি ২৮ লাখ টনে নামতে পারে, যা প্রায় নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ভুট্টা রফতানি ৯ শতাংশ কমে নামতে পারে ২ কোটি ২৩ লাখ টনে।










