চলতি বছরের শুরু থেকে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সঙ্গে লড়েছে চীন। ওই সময় দেশটিতে টানা লকডাউন চলেছে। মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন—সবকিছু কার্যত স্থবির হয়ে ছিল। ফলে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ও আমদানি—দুটোই রেকর্ড পরিমাণ কমেছিল। এখন চীনে লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। দেশটিতে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে মহামারী পরিস্থিতি। বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের চাহিদা। এর জের ধরে গত এপ্রিলে চীনা আমদানিকারকরা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও সিনহুয়া।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে চীনের বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। এপ্রিলে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে। এ সময় সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে চীন।
তবে মার্চের তুলনায় বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি কম হয়েছে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে চীনা আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছিলেন।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীন। অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগ জ্বালানি তেল অপরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করে দেশটি। পরে নিজস্ব কেন্দ্রে তা পরিশোধনের পর ব্যবহার করা হয়। এ কারণে চীনে চাহিদায় উত্থান-পতন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কায় চীনে চাহিদা কমতির দিকে থাকায় গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি পণ্যটির রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। এখন চাহিদা বাড়তে শুরু করায় জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। এতে বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম আগের তুলনায় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।










