চলতি মৌসুমে কোকোর বৈশ্বিক ঘাটতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। অব্যাহত ঘাটতির কারণে পণ্যটির দাম বাড়ছে লাফিয়ে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত বছরের আগস্টে কোকোর বৈশ্বিক বিপণন মৌসুম ২০২১-২২ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মৌসুম শেষ হবে। মৌসুম শেষে কোকোর বৈশ্বিক ঘাটতি দেড় লাখ টনে উন্নীত হবে। এর আগের জরিপে ১ লাখ ২৫ হাজার টনের তথ্য উঠে এসেছিল।
চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় কোকোর দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠছে। নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) গত বছরের শেষ দিকে প্রতি টন কোকোর মূল্য স্থির হয় ২ হাজার ৮০০ ডলারে। চলতি বছরও বাজারদরে এমন ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত আছে। আইসিই ফিউচারস ইউরোপে চলতি বছর কোকোর ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি মূল্য ১ হাজার ৮৭৫ ডলারে উঠে এসেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক ঘানায় কোকো উৎপাদন সংকুচিত হয়ে এসেছে। পাশাপাশি বেশির ভাগ আমদানিকারক দেশ এরই মধ্যে করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে পণ্যটির চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বেড়েছে।
তথ্য বলছে, মৌসুমি শুষ্ক আবহাওয়া, সাহারা মরুভূমি থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি হারমাতান নামে পরিচিত। এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করায় কোকো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কারণে ২০২১-২২ মৌসুমে ঘানার উৎপাদনে বিপর্যয় নামতে পারে। এ বিষয়টিই বৈশ্বিক ঘাটতির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
জরিপে বলা হয়, চলতি মৌসুমে ঘানায় কোকো উৎপাদন কমে ৭ লাখ ৫০ হাজার টনে নামতে পারে। যদিও বৈশ্বিক কোকো উৎপাদনে প্রথম দেশ আইভরি কোস্টে উৎপাদন স্থিতিশীল থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২২ লাখ টনে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা আরো জানান, করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পণ্য রফতানিতে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, তা কমেনি। ফলে প্রতিনিয়তই বিপাকে পড়তে হচ্ছে আমদানি ও রফতানিকারকদের। জাহাজে জায়গা না পাওয়ায় বেশির ভাগ সময়ই পণ্যের সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে। কনটেইনারের প্রাপ্যতা কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এছাড়া অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া তো আছেই। এসব কারণে কাঁচামাল ও রসদ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় নাগালের বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে রফতানিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।










