চলতি বছর সিরিয়ায় গম উৎপাদনে নজিরবিহীন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর পেছনে ভয়াবহ খরা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও দেশটির অর্থনৈতিক ভগ্নদশাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষিপণ্যটির উৎপাদন গত ৫০ বছরের সর্বনিম্নে এসে ঠেকেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এফএও বলছে, ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। এর পর থেকেই বিপর্যয় নামে দেশটির কৃষি খাতে। এ খাত পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। উৎপাদন ঘাটতির কারণে এরই মধ্যে দেশটিতে খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
তথ্য বলছে, ৯০ শতাংশ দারিদ্র্যের দেশটিতে ১ কোটি ২৪ লাখ মানুষই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গমসহ সব ধরনের খাদ্যশস্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ব্যর্থ হলে দেশটি অদূর ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গম ও যব সিরিয়ার প্রধান দুটি খাদ্যশস্য। চলতি বছর পণ্য দুটির উৎপাদনই মন্দার মুখে রয়েছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দেশটির গম উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ কমেছে। এফএওর তথ্য বলছে, এ বছর দেশটিতে ১০ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়। এছাড়া গত বছরের তুলনায় যব উৎপাদন কমেছে ১০ শতাংশ।
এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর সিরিয়ায় স্মরণকালের সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া অসময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও ছিল বেশি। সংশ্লিষ্টরা এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। ফলে গম উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।










