টানা দুই মাস ভোজ্যতেলের মজুদ বাড়াচ্ছে ভারত। বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমদানি বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্তত চারজন ডিলার জানিয়েছেন, আগস্টে ভোজ্যতেল আমদানি ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৮ লাখ ৫ হাজার টন হয়েছে। টানা দুই মাসে ১০ লাখ টনের বেশি পামঅয়েল কিনেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত। খবর রয়টার্স।
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম উদ্ভিজ্জ তেল আমদানিকারক। দেশটির প্রধান ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে ব্যাপক হারে আমদানি বাড়ানোয় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পামঅয়েলের মজুদ কমেছে। বাড়তি চাহিদার ফলে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এর প্রভাবে সূর্যমুখী তেল উৎপাদনকারী কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয়ও উদ্ভিজ্জ তেলের মজুদে চাপ পড়বে।
অক্টোবরে ভারতের পাম তেলের আমদানি ২৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ভারতের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারকরা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ) জানিয়েছে, ২০২১-২২ বিপণন বছরে ভারতের গড় মাসিক ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৭০ লাখ টন। আর চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারত রেকর্ড ১৭ লাখ ৬০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছে।
অন্যদিকে ডিলারদের গড় অনুমান অনুসারে, পামঅয়েল আমদানি জুলাইয়ে ১০ লাখ ৯০ হাজার টন থেকে বেড়ে আগস্টে ১১ লাখ ২০ হাজার টন হয়েছে, যা নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এসইএ চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আগস্টের উদ্ভিজ্জ তেল আমদানির তথ্য প্রকাশ করতে পারে বলে জানা গেছে।
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী ও ব্রোকার জিজিএন রিসার্চের ম্যানেজিং পার্টনার রাজেশ প্যাটেল বলেন, ‘পরিশোধনকারীরা আসন্ন দুর্গা উৎসবের মৌসুমকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণে ক্রয় বাড়িয়েছে। খুচরা বাজারে এখন মাঝারি ধরনের চাহিদা।’ তবে সামনের মাসেই চাহিদা বেড়ে যাওয়ার আশা করছেন তারা।
ডিলারদের অনুমান, সূর্যমুখী তেলের আমদানি এক মাস আগের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন হয়েছে। এ সংখ্যা সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টনে।
উদ্ভিজ্জ তেলের ব্রোকারেজ সানভিন গ্রুপের সিইও সন্দীপ বাজোরিয়া বলেছেন, ‘সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের তুলনায় পামঅয়েলের ডিসকাউন্ট বাড়তে থাকায় শোধনকারীরা পামঅয়েলের মজুদ বাড়াচ্ছেন।’ অন্যান্য ব্যবসায়ীর মতো তিনিও আসন্ন উৎসবের মৌসুমে বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন।
ভারত প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে পামঅয়েল আমদানি করে। আর সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে।
গ্লোবাল ট্রেডিং হাউজের নয়াদিল্লিভিত্তিক এক ডিলার বলেছেন, ‘আগস্টে আমদানি বাড়ার অন্যতম কারণ, জাহাজ থেকে জুলাইয়ের পণ্য খালাস না হওয়া। কান্ডলা বন্দরে বাড়তি ট্রাফিকের কারণে জুলাইয়ের জাহাজ আগস্টে আনলোড করা হয়েছে। পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ায় ভারতের সয়াবিন ও চীনাবাদামের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি বাড়িয়েছেন।’
চলতি বছর এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্কতম আগস্ট পার করেছে ভারত। এ মাসে দেশটির স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে ৩৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।










