মহামারীর পর গতি ফিরে পাচ্ছে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত। অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরবও উঠিয়ে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা। তবে এ সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতে। সীমান্ত খুলে দিলেও শক্তিশালী রয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ পর্যটন। সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি আল-মুসাফির। খবর আরব নিউজ। 

সৌদি ট্যুরিজম অথরিটি (এসটিএ) ও আল-মুসাফিরের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে সম্প্রতি। চুক্তিতে সৌদি আরবকে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সেখানে স্বাক্ষর করেছেন মুনিরাহ আবানোমি ও ফাহাদ আল ওবাইলান। 

মুনিরাহ আবানোমি এসটিএতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মার্কেটিং পার্টনারশিপ প্রধান ও ফাহাদ আল ওবাইলান আল-মুসাফিরের প্রধান পর্যটন অফিসার। স্বাক্ষর-পরবর্তী আলোচনায় উঠে এসেছে দেশটিতে চলতি বছরে আকাশপথে পরিভ্রমণের চালচিত্র। সার্বিক বিষয় তুলে ধরেছেন আল-মুসাফিরের সিইও মুজাম্মিল আহুসাইন। 

তিনি জানান, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত যথেষ্ট শক্তিশালী। চলতি বছরে দেশটিতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের বুকিং বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। এ বুকিং মহামারীর আগে ২০১৯ সালের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। প্রধান নির্বাহী দাবি করেন, মানুষ সবসময়ই দেশের অভ্যন্তরে পর্যটনে আগ্রহী। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যটন খাত পুরোপুরি খুলে দেয়া হয়েছে, তার পরও বেড়ে চলছে অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা। 

এককভাবে তেলনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে চলছে সৌদি আরব। সরকারি উদ্যোগের বাইরে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়েছে বেসরকারি খাতকে। গড়ে উঠেছে উদ্যোক্তা। উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সৌদি আরব। দেশের ভেতরেও সৃষ্টি করেছে পৃথক আবেদন। 

দুবাইতে স্বাক্ষর হওয়া নতুন চুক্তিটি অনুসারে, দেশটির পর্যটন শিল্পকে ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করবে পর্যটন কোম্পানি হজ ও ওমরা পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ‘‌মাওয়াসিম’। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সেবাগ্রহীতার মাঝে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে কাজ করবে তারা। 

আহুসাইন দাবি করেন, ‘‌আল-মুসাফির কয়েকটি পরিষেবা প্রদান করে থাকে। আমাদের ভোক্তা পরিষেবাও রয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠান-গ্রাহক পরিষেবা (বিটুসি) হিসেবে পরিচালিত হয়। বিশেষ করে কুয়েত ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য বিটুসি পরিষেবা দেয়া হচ্ছে। আমরা তাদের সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমোদন দিয়েছি। মক্কা, মদিনা ও সৌদি আরবের অন্যান্য অংশে চাইলেই ভ্রমণ করতে পারেন গ্রাহকরা।’

আল-মুসাফির কেবল এসটিএর সঙ্গেই চুক্তিতে আবদ্ধ হয়নি, এর আগে চুক্তি হয়েছে সৌদিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন ‘‌আল ফুরসান’ ও আল রাজি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন মোকাফা লয়্যালিটি প্রকল্পের সঙ্গে। রাজ্যে ট্যুরিজম বৃদ্ধিতে নেয়া হয়েছে বেশকিছু উদ্যোগ। তার প্রমাণই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে দাবি জানিয়েছেন আহুসাইন। তবে সৌদি আরবের আকাশপথ খুলে দেয়ার পর নাগরিকরা বাইরেও ভ্রমণ করে চলছেন নিয়মিত। ২০২২ সালের গ্রীষ্মে তুরস্ক অবরোধ তুলে নেয়। এরপর থেকে তুরস্ক ছিল সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে দুবাই, কায়রো, লন্ডন ও দোহার অবস্থান ছিল তার পরই।