নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভারতে লকডাউনসহ নানা ধরনের সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোজ্যতেলের চাহিদায় ধস নেমেছে। এদিকে চাহিদা কমায় পণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর জের ধরে গত মে মাসে দেশটির ভোজ্যতেল আমদানি কমে গত ১০ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। খবর ইকোনমিক টাইসম।

সংশ্লিষ্ট খাতের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের ব্যবসায়ীরা সব মিলিয়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন ভোজ্যতেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করেছে, যা ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন আমদানি। চাহিদায় মন্দা ভাব পণ্যটির আমদানি কমাতে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। লকডাউনের মধ্যে দেশটির হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেগুলোয় ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমেছে ২৫ শতাংশ। এছাড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় এ সময়ে গৃহস্থালি খাতেও পণ্যটির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল  ভোক্তা দেশগুলোর তালিকায় ভারতের অবস্থান প্রথম সারিতে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর দেশটি প্রচুর ভোজ্যতেল আমদানি করে। গত কয়েক বছরের মধ্যে মে মাসে দেশটি গড়ে ১২ লাখ টনের কাছাকাছি ভোজ্যতেল আমদানি করেছে। সে তুলনায় গত মাসে পণ্যটির আমদানি প্রায় ৩৮ শতাংশ কমিয়েছে দেশটি। দেশটি বছরপ্রতি গড়ে ১ কোটি ৪৯ লাখ টন ভোজ্যতেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করে। বাকিটা অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করে।

সলভেন্ট এক্সট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশ অব ইন্ডিয়ার (এসইএ) সভাপতি অতুল চতুর্বেদী বলেন, গৃহস্থালি খাতের বাইরে ভারতে প্রতি বছর গড়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টন ভোজ্যতেল ব্যবহার হয়। চলতি বছরের মে মাসে খাতটিতে পণ্যটির ব্যবহার ২৫ লাখ টনের মতো কমে গেছে।

এসইএর নির্বাহী পরিচালক বিভি মেহতা বলেন, মাহামারী ঠেকাতে ঘোষিত লকডাউন ঠিক কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত হওয়ায় এপ্রিলেই লোকজন ভোজ্যতেলের মজুদ বাড়িয়ে নিয়ে থাকতে পারে। ফলে মে মাসে এসে পণ্যটির অভ্যন্তরীণ ক্রয়-বিক্রয় একেবারে কমে গেছে। এ পরিস্থিতি দেশটির ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে আনতে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গনা ও ওড়িশায় সূর্যমুখী তেলের চাহিদা ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এসব অঞ্চলে পাম অয়েলের চাহিদা আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

তবে জুনে দেশটিতে ভোজ্যতেলের চাহিদায় চাঙ্গা ভাব ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন খাতংশ্লিষ্টরা। চাহিদা বাড়লে এ সময়ে দেশটিতে পণ্যটির আমদানি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে। বিভি মেহতা বলেন, জুনে ভারতে ভোজ্যতেলের আমদানি বেড়ে ১০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। কারণ লম্বা লকডাউন শেষে এ সময়ে অফিস ও শিল্প খাতগুলো পুনরায় চালু হতে শুরু করেছে। এছাড়া কয়েকটি রাজ্যে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট খোলার অনুমতি  দিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে জুনে ভারতে ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়তে পারে। সঙ্গে বাড়তে পারে পণ্যটির আমদানি।