স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সিঙ্গাপুরকে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে এগিয়ে রাখছে। ফলে ক্রমেই গতিশীল হচ্ছে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি। ধনীক ভোক্তা শ্রেণী আর সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও আসিয়ান অঞ্চলজুড়ে অন্যদের তুলনায় ভালো অবস্থায় দেশটি। এ তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে বিনিয়োগ ফার্ম ইনভেস্টমেন্টস ও পিডব্লিউসি (প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস) সিঙ্গাপুর কর্তৃক প্রকাশিত ‘এশিয়া ২.০: ইনভেস্টিং ইন অ্যান এরা অব নিউ অপরচুনিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
গবেষণাপত্রটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক করপোরেশনের ১০০ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি কোম্পানির নির্বাহীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা এশিয়ার বাজারজুড়ে মূল পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্ভূত সুযোগগুলো পর্যালোচনা করে।
প্রতিবেদন অনুসারে সিঙ্গাপুরের আরেকটি শক্তি হচ্ছে, ক্রমবর্ধমান উচ্চব্যয়ের সক্ষমতা সম্পন্ন ভোক্তাদের উপস্থিতি। সিঙ্গাপুরে মাথাপিছু বার্ষিক নিষ্পত্তিযোগ্য আয় ২০১০ সালে ২৩ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ২৮ হাজার মার্কিন ডলারে (৩৭ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার) পৌঁছেছে। ২০৩০ সাল নাগাদ তা ৪৭ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) ২০১০ সালে যেখানে ছিল ৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার, তা ২০২০ সালে ৭ হাজার ৫০০ কোটিতে পৌঁছেছে। একই সময়কালে সিঙ্গাপুরের মোট দেশীয় উৎপাদন বা জিডিপি ২৩ হাজার ৬০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে। জরিপে অংশ নেয়া ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশের আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক করপোরেট সদর দপ্তর রয়েছে এ শহরে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব রয়েছে ২৯ শতাংশের। তাই স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে সিঙ্গাপুর।
গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার ইনডেক্স অনুসারে, সিঙ্গাপুর ২০২২ সালে এশিয়ার শীর্ষ এবং বিশ্বের তৃতীয় আর্থিক কেন্দ্র ছিল। এশিয়া ২.০: ইনভেস্টিং ইন অ্যান এরা অব নিউ অপরচুনিটি শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সিঙ্গাপুর ব্যবসায়িক পরিবেশের স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেয়। ৫৭ শতাংশ ব্যবসায়ী নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা ইএসজির (পরিবেশ, সামাজিক অবস্থান ও সুশাসন) ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
সিঙ্গাপুর ছাড়াও এশিয়ার অন্যান্য দেশের সম্প্রসারণের সম্ভাবনা ঘিরেও অনুসন্ধান চালানো হয় প্রতিবেদনে। জরিপে অংশগ্রহণকারী বিশ্ব ব্যবসায়িক নেতাদের প্রায় ৬৭ শতাংশ বিশ্বাস করেন এশিয়ার মধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিকাশের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরই রয়েছে চীন (৫৭ শতাংশ) ও ইন্দোনেশিয়া (৩৮ শতাংশ)।
জরিপে অংশ নেয়া বেশির ভাগ ব্যবসায়ী নেতা (৭৭ শতাংশ) বলেছেন, এ অঞ্চলের সম্প্রসারণ ও বিকশিত গ্রাহকদের বিষয়টি বিবেচনা করে তারা এশিয়ার রূপান্তরের জন্য অপেক্ষা করছেন। অংশগ্রহণকারী ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী নেতা এশিয়ার ভবিষ্যৎ রূপান্তরের পাশাপাশি এ অঞ্চলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থনের জন্য কয়েকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। এ সম্পর্কে পিডব্লিউসি সিঙ্গাপুরের ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ প্র্যাকটিসের অংশীদার সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, ‘বিশ্বের ব্যবসায়িক নেতারা স্পষ্টতই এশিয়ার প্রবৃদ্ধি, রূপান্তর ও অব্যবহৃত সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন।’










